কিমের বক্তব্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় ঠাণ্ডা নুডলস্‌ খাওয়ার হিড়িক!

Share this...
Print this pageShare on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন যুদ্ধবিরতি রেখা অতিক্রম করে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবেশ করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু তিনি আসল তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন ঠাণ্ডা নুডলস্‌ নিয়ে একটি মন্তব্য করে।

দুই নেতার আনুষ্ঠানিক করমর্দনের পর হাল্কা কথা-বার্তা এবং হাস্যরসের সুযোগ ছিল। সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে কিম বলেন, তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন’র জন্য তার দেশের বিখ্যাত ঠাণ্ডা নুডলস্‌ নিয়ে এসেছেন।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, কিম বলেন ”আমি খবরের দিকে নজর রাখছিলাম এবং দেখলাম লোকজন খাবার-দাবার নিয়ে অনেক কথা বলছে। তাই আমি প্রেসিডেন্ট মুনের জন্য পিওংইয়াং থেকে ঠাণ্ডা নুডলস্‌ নিয়ে এসেছি।”

আরেকটি অনুবাদে বলা হয়, তিনি বলেন এই নুডলস্‌ তারা ‘বহু দূর’ থেকে নিয়ে এসেছেন … কিন্তু তারপরই কৌতুক করে বলেন, ”আহা, আমাদের হয়তো এত দূর বলা উচিত না”।

তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বিশাল কোন ব্যাপার না হলেও, দক্ষিণ কোরিয়ায় পিওংইয়াং ঠাণ্ডা নুডলস্‌-এর জন্য এক রকম উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে।

দক্ষিণের ঠাণ্ডা নুডলস্‌-এর দোকানের সামনে ক্রেতাদের লম্বা লাইন তৈরি হয়েছে, এবং সামাজিক মাধ্যমে ‘পিওংইয়াং ঠাণ্ডা নুডলস্’ নিয়ে কথা-বার্তা শীর্ষ বৈঠকের চেয়ে বেশি হচ্ছে।

বাজরা দিয়ে তৈরি ‘পিওংইয়াং ন্যাংমিয়াং’ ঠাণ্ডা নুডলস্‌ কিম দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের জন্য নিয়ে এসেছেন, এবং কোরিয়া হেরাল্ড পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী এই নাম ট্যুইটারে ট্রেন্ডিং শব্দগুলোর শীর্ষে চলে যায়।

একজন ট্যুইট করেছেন, ”কিম জং-উন ঠাণ্ডা নুডলস্‌ নিয়ে জোক করেছেন। এখন সেটাই শীর্ষ বৈঠকের চেয়ে বেশি ট্রেন্ড করছে। হোয়াট দ্য …”

আরেকজন বিস্ময় প্রকাশ করে ট্যুইট করেছেন, ”দুই কোরিয়ার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ঘটনা ঘটছে আর দক্ষিণ কোরিয়ায় মাঠ-পর্যায়ে প্রতীকী প্রতিক্রিয়া হচ্ছে পিওংইয়াং ঠাণ্ডা নুডলস্‌ (#ন্যাংমিয়াং)-এর জন্য লম্বা লাইন। ভাবলাম বিষয়টি বেশ মজাদার।”

এই উন্মাদনা সামাজিক মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ ছিল না। দক্ষিণ কোরিয়ার যেসব রেস্টুরেন্টের মেনুতে এই ঠান্ডা নুডলস্‌ রয়েছে, সেখানে লাইন দিয়ে পিওংইয়াং ন্যাংমিয়াং খাওয়ার হিড়িক পড়ে গেছে।

সাংজু হান ইন্সটাগ্রামে একটি সেলফি দিয়ে লিখেছেন, ”দুই কোরিয়ার শীর্ষ বৈঠক উদযাপন করার জন্য আমি লাঞ্চে ঠাণ্ডা নুডলস্‌ খেয়েছি।”

”আমি যখন আসি তখন এখানে লম্বা লাইন ছিল। রেস্টুরেন্টে বসার কোন জায়গা ছিল না। ঠাণ্ডা নুডলস্‌ খাওয়ার জন্য আমাকে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে। আমার বিশ্বাস সবাই একই কারণে এই রেস্টুরেন্টে এসেছেন। ”

দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা এক রিপোর্টে বলে, পূর্ব সোলে অবস্থিত একটি রেস্টুরেন্টে এত ভিড় যে গাড়ি পার্ক করার জায়গা ছিল না।

সোলের আরেকটি রেস্টুরেন্টে অপেক্ষমাণ লোকজন তাদের নাম ডাকার সাথে সাথে চিৎকার করে বলে উঠছে, ”এবার পিওংইয়াং ন্যাংমিয়াং খাওয়া যাক, কিম জং-উনের সাথে খেতে হবে!”

সূত্র: বিবিসি বাংলা

 

Share this...
Print this pageShare on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *