মন্তব্য প্রতিবেদন: রণজিৎ মোদক

“সৎপথে সৎ কর্ম থেকে বিচ্ছুত হলে চলবে না
অতএব, কান্ডারী হুশিয়ার”

কর্মের সাথেই ভাগ্য জড়িত। কিন্তু ভাগ্য যদি সহায়ক হয়, তবে সেখানে বলার কিছুই নেই। জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আনবিক বোমা নিক্ষেপ করেছিলো। সেদিন ঘুমের মধ্যেই সাধারণ নিরপরাধ হাজার হাজার মানুষ মৃত্যুর স্বাদ নেয়। সে দিনের সেই ভয়াবহ স্মৃতির কথা স্মরণ করে বিশ্ববাসী আজও ভয়ে শিহরিত হয়ে উঠে। সেই বিধ্বস্ত জাপান আজ বিশ্বের প্রধান অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ দেশ। জাপানীরা কর্মকেই ভাগ্য গড়ার হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল রাষ্ট্র চীন ও ভারত বিশ্বের পরাশক্তি রূপে আত্মপ্রকাশ করছে। এর পিছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পরিশ্রম। ভাবতে কষ্ট হয়, যে জাতির রয়েছে সংগ্রামী ইতিহাস যে জাতি মাতৃভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে। যে জাতি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের মাধ্যমে মাত্র নয় মাসের সশস্ত্র যুদ্ধে দেশ স্বাধীন করতে পারে। সে জাতি কোনোদিন পিছিয়ে থাকতে পারে না। মা-মাটি মানুষকে যারা ভালবেসেছে মুক্তিযুদ্ধে তাদের অবদান চির অম্লান। বিগত জাতীয় নির্বাচনগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে প্রমাণ করেছে। অনেক আশা আকাঙ্খা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী আওয়ামীলীগ ও তার মহাজোটকে ভোট দেয়। এ সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা ছিল অনেক। পর্যবেক্ষক মহল গত নির্বাচনের পূর্বে বিভিন্ন টকশোতে অনেক কথাই বলেছেন। তন্মধ্যে জোট সরকারের সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে এই সরকারকে হিমশিম খেতে হবে বলে মন্তব্য করেন। সমস্যা সমাধানে সময়ের প্রয়োজন। বিএনপি নেতা সাবেক মন্ত্রী আব্দুল মান্নান ভূইয়া মৃত্যুর পূর্বে এক সাক্ষাৎকারে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সমস্যার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ গ্যাস সমস্যা সমাধান সময়ের ব্যাপার। সাধারণ সচেতন মানুষও এ বিষয়টি সেই ভাবেই গ্রহণ করেছে ফলে বিএনপি ও তার জোটভুক্ত দলগুলো বিদ্যুৎ গ্যাস সমস্যার আন্দোলন নিয়ে তেমন অগ্রসর হতে পারেনি। তবে বিদ্যুৎ গ্যাস বিভাগে যে পুরানো ভূত রয়েছে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়টি জানেন বলে সাধারণ জনগণের ধারণা। পাশাপাশি গ্যাস বিদ্যুৎ গ্রাহকরাও তা অনুভব করতে পারছেন। যেখানে বিএনপি সরকার তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন দেখিয়েছে। বর্তমান আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালে বিদ্যুৎ উন্নয়নের ঝলক দেখিয়েছে। যা উৎপাদন বৃদ্ধি সম্পন্ন করেছে প্রায় পনের হাজার মেগাওয়াট। ২০১০ সালের রমজান মাসে বিদ্যুৎ গ্যাস নিয়ে তেমন একটা তিক্ততার সৃষ্টি হয়নি। কিন্তু বর্তমান সময়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন এতো উৎপাদনের পরও কেন লোডশেডিং পোহাতে হয়? তাহলে কি বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিভাগে পুরানো ভূতের আঁচড় পড়েছে নাকি ঈদকে সামনে রেখে গ্রাহক হয়রানির মাধ্যমে ফায়দা লুটের চেষ্টা চলছে? এমন প্রশ্নে হতবিম্ব হওয়ারতো কথাই! সাধারণ মানুষ দিন দিন হাঁপিয়ে উঠছে বিদ্যুৎ ও গ্যাস কর্মকর্তাদের এমন অসদাচরণে। সুধী মহল মনে করেন বর্তমান সরকারকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এমনটা করা হচ্ছে। কথায় আছে, “সুজনে সুজশ গায়, কুজশ না সিয়া” আর “কুজনে কুজশ গায়, সুজশ ঢাকিয়া”। বর্তমান সরকার বিভিন্ন খাতে উন্নয়ণ করেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রত্যেক নেতাকর্মীকে তৃণমূলের কাছে যেতে বলেছেন। তাদের সমস্যাগুলো জানার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন নেতাকর্মীদের। কিন্তু বেশিরভাগ নেতাকর্মীরা ঠিক তার উল্টো ! ভোট আসলেই দেখা যায়। ভোটের পর এরা কোথায় যে পাড়ি জমায় তা কেউ বলতে পারে না। তৃণমূল জনগণের অনুরোধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেন নিজেই এসে তাদের সমস্যা দূরীকরণ করতে সাহায্য করে।

দেশকে অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী করতে হলে অর্থনীতিবিদদের আন্তরিক পরামর্শ নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। এখানে কোন দীর্ঘ সূত্রিকার অবকাশ নেই। বর্তমান সরকার বন্ধ শিল্প কারখানাগুলো চালু করে বেকার সমস্যা সমাধান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ণে কাজ করছে। দীর্ঘ ২২ বছর বন্ধ থাকার পর কুষ্টিয়ার মোহিনী মিল চালু করা হয়। বিএনপি সরকার ৩২৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে এশিয়ার বিখ্যাত আদমজী পাট মিল বন্ধ করে দেয়। ফলে লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার ও পাট শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টরা নিরাশ হয়ে পরে। কৃষিক্ষেত্রে পাট শিল্পের বিপর্যয় ঘটে। বর্তমান সরকার সেই পাট শিল্পকে ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এখন বাংলাদেশী পাটের পণ্য বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। বিদেশ থেকে আনা সেই ৩২৫ কোটি টাকা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে এশিয়ার বিখ্যাত আদমজী মিলকে (ইপিজেড) হিসেবে চালু করেছে বর্তমান সরকার। বিভিন্ন বন্ধ হয়ে যাওয়া পাটকলগুলো চালু হওয়ায় আজ পাট চাষীদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। মুক্তিযুদ্ধের নব চেতনার পথ ধরে সংবিধান সংশোধন জাতির সামনে এক আশার আলো বলেই অনেকে মন্তব্য করেছেন। তারপরও কথা থেকে যায়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকার বন্যা খরা পেরিয়ে দেশে অসংখ্য ব্রীজ, কালভার্ট, রাস্তা-ঘাট নির্মাণ করেও ২০০১ সালে আওয়ামীলীগ পরাজিত হয়। সেই পরাজয়ের পর অনেক নেতাকর্মীর উপর এমনকি সংখ্যালঘু ভোটার এলাকায় নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। সুধী মহলের ধারণা, হাতে গোনা মুষ্টিমেয় অতি উৎসাহীর কারণে এই নির্বাচনে পরাজয় ঘটে। বলা যায়, সাত বছর পর জনগণের ভোটে পুনরায় আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসে।

বর্তমান সরকার এবং সরকার দলীয় নেতা কর্মীদের অবশ্যই স্মরণ রাখতে হবে। নিজ স্বার্থের জন্য এক শ্রেণীর কথিত হাইব্রীড নেতাকর্মীদের কারণে বিভিন্ন স্থানে যে সকল নিন্দনীয় কর্মকান্ড করছে এবং তা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ পাচ্ছে। তাতে বিষয়টি শুভ বলে মনে হচ্ছে না। দেশে খাদ্য সমস্যা সমাধান এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে সরকারকে অবশ্যই কঠোর হতে হবে। ক্ষমা যেন দুর্বলতার রূপ না নেয়। কঠোর হস্তে দুর্নীতির মূল উৎপাটন করা এখনই প্রয়োজন। এক সময় এদেশের মানুষ বাঁচার তাগিদে আইয়ুব খানের আমলে রিলিফের ৫ সের গমের জন্য লাইন দিতো। বর্তমান বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ রিলিফ চায় না। চায় কাজ এবং শান্তি। সেই শান্তি প্রতিষ্ঠায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট যারা নিয়োজিত তাদের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে জাতি। সৎপথে সৎ কর্ম থেকে বিচ্ছুত হলে চলবে না। অতএব, কান্ডারী হুশিয়ার।

 

কারাগার থেকে বাসায় আসিফ

তথ্যপ্রযুক্তি আইনে করা মামলায় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে বাসায় ফিরেছেন।

সোমবার বিকাল ৪টায় কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান জনপ্রিয় এ শিল্পী।

কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির ও আসিফের আইনজীবী ওমর ফারুক এ বিষয়ে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে আজ দুপুরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে গীতিকার, সুরকার ও গায়ক শফিক তুহিনের করা মামলায় ১০ হাজার টাকা মুচলেকা দিয়ে জামিন পান সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর।

সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম কেশব রায় তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন। মামলায় পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করার আগ পর্যন্ত এ জামিন বহাল থাকবে বলে জানা গেছে।

সকালে আদালতে তার আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। পরে জামিন আবেদনে শুনানি শেষে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি দল আসিফকে তার অফিস থেকে গ্রেফতার করে। এরপর থেকে অনেকটাই উত্তাল সংগীতাঙ্গন। বিষয়টি নিয়ে অনেকের নানা মতামত ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *