র‌্যাবের অভিযানে রাজধানী থেকে পলাতক এক জঙ্গী গ্রেফতার

Share this...
Print this pageShare on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন আনসারুল্লা বাংলা টিমের পলাতক এক জঙ্গীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১। এসময় তার কাছ থেকে উগ্রবাদী বই ও লিফলেট উদ্ধার করা হয়। শনিবার (১০ ফেব্রæয়ারি) রাজধানীর কমলাপুুর এলাকা হতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার কৃত আসামীর নাম মোঃ তৌফিক হোসেন ওরফে সুমন (৩৪)। জঙ্গী সুমনের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জ থানায় র‌্যাব বাদী হয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করে। মামলা নং ৫৮। রবিবার দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীনগরস্থ র‌্যাব-১১ সিনিঃ সহকারী পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেন এ তথ্য জানান।
র‌্যাব-১১ এই কর্মকর্তা আরো জানান, মোঃ তৌফিক হোসেন ওরফে সুমন ১৯৯৮ সালে খিলগাঁও সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় হতে এসএসসি এবং ২০০০ সালে বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে। পরে ২০০৫ সালে সুইজারল্যান্ড থেকে ফরাসী ভাষার উপর কোর্স করে এবং ২০০৯ সালে সুইজ হোটেল ম্যানেজমেন্ট স্কুল সুইজারল্যান্ড থেকে হোটেল ম্যানেজমেন্ট এর উপর ডিগ্রী অর্জন করে। সুইজারল্যান্ডে থাকাকালীন সময় মধ্যপ্রাচ্যের কিছু সহপাঠীর মাধ্যমে হানাফি থেকে সালাফি মতাদর্শে প্রবেশ করে। ২০১০ সালে সে বাংলাদেশে আসার পর তার সমমনা লোক ও সংগঠন গুলোর অনুসন্ধান করতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় সে মোহাম্মদপুরের বসিলায় জসিম উদ্দিন রাহমানির মসজিদে যাতায়াত শুরু করে এবং ইন্টারনেট থেকে বিভিন্ন উগ্রবাদী বক্তব্য ও ভিডিও দেখে কথিত জিহাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়। উগ্রবাদী বক্তব্য ভালোভাবে বোঝার জন্য সে ২০১৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ই›সটিটিউট এ আরবী ভাষার উপর কোর্স করে। কোর্স করাকালীন সময়ে ইফতেখার নামের একজনের সাথে তার পরিচয় হয়। এই ইফতেখারের মাধ্যমেই পরবর্তীতে সে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমে যোগদান করে। ইফতেখারের মাধ্যমে তার সাথে ফাহাদ, রাহাত, আসাদ, সৈয়দ রায়হান কবির ওরফে বাবু, ফয়সাল, তাজউদ্দিন আহমেদ ওরফে সনেট এবং মাওলানা ইসহাকের পরিচয় হয়। সে আনসারুল্লা বাংলা টিমে যোগদান করার পর সাংগঠনিক দ¶তার কারণে বাকী সদস্যদের উপরে প্রভাব বিস্তার করতে স¶ম হয়। ২০১৫ সালের মে মাসে তার সঙ্গী ইফতেখার, ফাহাদ, রাহাত, আসাদসহ আরো কয়েকজনকে বিস্ফোরক দ্রব্যাদিসহ রাজধানীর খিলগাঁও, সুত্রাপুর ও মোহাম্মদপুর থেকে পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার হলেও তৌফিক কৌশলে পালিয়ে গিয়ে আত্মগোপন করে। এরপর আইন-শৃক্সখলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতার কারনে সাংগঠনিক কাজ কিছুটা ঝিমিয়ে পড়লে তৌফিক দাওয়াতী কাজ ও কর্মী সংগ্রহের দিকে মনোনিবেশ করে এবং ফেইসবুকসহ বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়ায় দাওয়াতী কাজ চালাতে থাকে। সে বেশ কিছুদিন যাবৎ রাজধানীর গুলশানের সিটিএস এবং উত্তরায় ডিপিএস এসটিএস নামক দুইটি বেসরকারী স্কুলে খন্ডকালীন ফরাসী ভাষার শি¶ক হিসেবে কাজ করেছে। এছাড়াও ইন্টারনেট ভিত্তিক একটি ম্যারেজ মিডিয়া পেইজে সে এ্যাডমিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। এই পেইজটিতে দ্বীনি ভাই-বোনদের বিয়ের ব্যবস্থা করার নিমিত্তে তাদের দেয়া নির্ধারিত ফরমে বায়ো ডাটা পূরণ করে পাঠাতে বলে। পরবর্তীতে তাদের সাথে সম্পর্ক তৈরীর মাধ্যমে আনসারুল্লা বাংলা টিমের দাওয়াত দিয়ে তার দলে অর্ন্তভুক্ত করার কাজ করছিল।

Share this...
Print this pageShare on FacebookShare on Google+Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *