এমপির বাড়িতে ২৬ দিন মামলার বাদিকে বন্দি রাখার অভিযোগ

বিডি নিউজ আই, ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আওয়ামীলীগের দুইগ্রুপ ও পুলিশের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষে সেচ্ছাসেবকলীগ কর্মী সুমন মিয়া হত্যা মামলার বাদি নিহত সুমনের শ্বাশুড়ি কাজল রেখাকে টানা ২৬ দিন স্থানীয় এমপির বাড়িতে নজরবন্দি করে রাখা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। বন্দিদশা থেকে বের হওয়ার পর জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে বাদি কাজল রেখার ছেলে বুধবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর ভাটারা থানায় সাধারন ডায়েরি করেছেন। ভাটারা থানার সাধারন ডায়েরি নং-৯৪৯।

নিহত সেচ্ছাসেবকলীগকর্মী সুমন মিয়া হত্যা মামলার বাদি ও নিহত সুমনের শ্বাশুড়ি কাজল রেখা জানান, গত ৮ ফেব্রুয়ারী ত্রিমুখী সংঘর্ষে অনেকের সঙ্গে তার মেয়ের জামাই সুমন মিয়াও আহত হয়। হাসপাতালে নেয়া চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষনা করে।এ ঘটনায় ওদিন রাতে রূপগঞ্জের সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজী তার রুপসীর বাস ভবনে লোক মারফত সুমনের পিতা মনু মিয়া এবং তাকে ডেকে নেয়। পরে আওয়ামীলীগ নেতা, কায়েতপাড়া ইউনিয়ন ও রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিকসহ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করার জন্য মনু মিয়াকে নির্দেশ দেয়। ঘটনা আঁচ করতে পেরে সুমনের পিতা মনু মিয়া কৌশলে পালিয়ে যায়। এরপর নিহত সুমনের শ^াশুড়ি কাজল রেখাকে এমপি থানায় পাঠায় মর্গ থেকে সুমনের লাশ ফেরত আনার জন্য কাগজে স্বাক্ষর দিবে হবে এমন কথা বলে। পড়াশোনা না জানা কাজল রেখাকে একটি লিখিত কাগজে স্বাক্ষর করায় রূপগঞ্জের তৎকালীন ওসি ইসমাইল হোসেন। এরপর থেকে চলতি মাসের ৪ তারিখ অবধি গাজীর বাড়িতে নজরবন্দি করে রাখেন কাজল রেখাকে। ৪ মার্চ নিহত সুমনের স্ত্রী ফারজানা আক্তার জর্দান থেকে দেশে ফিরলে তার সাথে দেখা করার কথাবলে কৌশলে কাজল রেখাকে এমপির বাড়ি নিয়ে আসেন তার ছেলে রুহুল আমিন। বের হয়ে এসে কাজল রেখা জানতে পারেন তাকে বাদি করে রফিকুল ইসলাম রফিকসহ আওয়ামীলীগের ১৭ নেতাকর্মীও বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তিনি এ মামলায় নিজের অজ্ঞাতে স্বাক্ষর করেছেন এমন কথা স্থানীয়দের জানালে বিভিন্ন মহল থেকে তাকে খুন গুমসহ পুরো পরিবারকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয়া হচ্ছে। এরপর থেকে নিজেদের জীবন বাঁচাতে পুরো পরিবার বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

এই ঘটনায় নিহত সুমনের শ্যালক রুহুল আমিন বুধবার রাজধানীর ভাটারা থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করেন।

এ ব্যাপারে স্থানীয় এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতিক) এর মোবাইলে (০১৭২৬৮৯১৯৯২) সাংবাদিকরা একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *