ভোক্তা সংরক্ষণ অধিপ্তরের আদলে গণশুণাণীর দাবি-ক্যাব চট্টগ্রাম

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিসেস বার্ষিক প্রতিবেদন গ্রনযোগ্য নয়

বিডি নিউজ আই ডেস্ক: ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে সেবা পেতে গ্রাহকরা প্রতিনিয়তই নানা ধরনের হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিসেস (এফআইসিএসডি) ২০১৬-২০১৭ সালের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ি প্রাপ্ত অভিযোগ নিষ্পত্তির হার ৯৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ। আর হেলপ লাইনের টেলিফোনে ১০ হাজার অভিযোগ নিস্পত্তির দাবি করা হয়েছে যা কোনভাবেই গ্রহনযোগ্য ও বিশ্বাস যোগ্য নয়। কারন যেখানে টেলিফোনে করে অপারেটরকে পর্যন্ত পাওয়া যায় না, অনলাইনে অভিযোগ করলেও যেখানে প্রাপ্তি স্বীকার পর্যন্ত যেখানে পাওয়া যায় না, সেখানে অনলাইনে ৩ হাজার অভিযোগ নিস্পত্তির তথ্যগুলোর সত্যতা সম্পর্কে জনমনে সন্দেহ অবকাশ রয়েছে। বিষয়গুলি অনেকটাই কাল্পনিক, অগ্রহনযোগ্য ও অবিশ্বাস্য বলে মন্তব্য করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভোক্তা হয়রানির বিষয়ে জনগনকে বিভ্রান্ত করার নতুন ফন্দি বলে ব্যাংক লুটের মতো এটি তথ্য লুট কিনা তা নিরপেক্ষ তদন্ত অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়েছেন দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের জাতীয় প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম নগর ও বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের এফআইসিএসডি কর্তৃক প্রতিবেদন প্রকাশের পর ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক হয়রানি ও ভোগান্তির মাত্রা ভয়াবহ আকারে বৃদ্দি পেলেও প্রতিকারে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় এক বিবৃতিতে ক্যাব নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান।

বিবৃতিকে ক্যাব নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন অভিযোগ নিস্পত্তিতে এফআইসিএসডি এর চরম শৈথল্যতা প্রদর্শন, অনাগ্রহ এবং অধিকাংশ স্থানে গ্রাহকদেরকে অভিযোগে নিরুৎসাহিত করার ঘটনায় সাবেক গর্ভনর ডঃ আতিউর রহমানের আমলে প্রতিষ্ঠিত এই বিভাগটির প্রতি সাধারন গ্রাহকদের আস্থা ও বিশ্বাস হারানোর ফলে গ্রাহকরা এখন অসহায় হয়ে পড়েছে। ভোগান্তির মাত্রা চরম হলেও গ্রাহকরা এখানে অভিযোগ করতে অনাগ্রহী। কারন অভিযোগ জানানোর হেলপ লাইনটি সচল নয়। যদি সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশ ব্যাংকের এফআইসিএসডি অভিযোগ সেলটি কার্যকর থাকতো তাহলে এই পরিসংখ্যানের পাল্লা আরো ভারি হতো। তাই গ্রাহক স্বার্থ রক্ষায় দেশের কেন্দ্রিয় ব্যাংকের আশু করনীয় দাবি করে অবিলম্বে এফআইসিএসডি সেলটি পরিপূর্ন ভাবে কার্যকর করা এবং অভিযোগ নিস্পত্তি করতে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের আদলে গণশুণাণীর আয়োজন করা এবং বিভাগের কার্যক্রম নজরদারির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক, ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশন ও ক্যাব প্রতিনিধি সমন্বয়ে ত্রিপাক্ষিক মনিটরিং কমিটি গঠনের দাবি জানান।

বিবৃতিকে ক্যাব নেতৃবৃন্দ বলেন সাবেক গর্ভনর ডঃ আতিউর রহমানের আমলে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১১ সালের ১ এপ্রিল গ্রাহক স্বার্থসংরক্ষণ কেন্দ্র (সিআইপিসি) গঠন করে। পরিধি বাড়তে থাকায় পরে একে ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিসেস(এফআইসিএসডি) নামে পূর্ণাঙ্গ বিভাগে রূপ দেওয়া হলেও গর্ভনর পরিবর্তন হওয়ার পর এটি একটি অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়। কোন গ্রাহক অভিযোগ করলে তার কোন প্রাপ্তি স্বীকার পর্যন্ত করা হয় না। এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম দেখলে মনে হবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষার জন্য একটি নতুন বিভাগ খোলা হয়েছে। যার সচিবালয় হিসাবে এটি কাজ করছে।

নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে আরো বলেন, অনেক বিশেষজ্ঞরা গ্রাহক পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ দিলেও এটি মুলত গ্রাহকদের সাথে আরো একটি প্রতারনার সামিল হবে। কারন কোন গ্রাহক অভিযোগ করে প্রতিকার পেলে সে অন্য গ্রাহকদের কাছে বিষয়টি জানাবেন। কিন্তু গ্রাহক ব্যাংক ঋন নেবার সময় যেরকম পায়ের সেন্ডেল ক্ষয় করে ঋন পান, সেরকম একটি অভিযোগ দিয়ে পুরো বছর বাংলাদেশ ব্যাংকের এফআইসিএসডি অফিসে জুতা ক্ষয় করেও প্রতিকার না পেলে অভিযোগ করাতো দুরের কথা, এর ধারে কাছেও যাবেন না।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের এফআইসিএসডি বিভাগে যেসব অভিযোগ এসেছে তার বেশিরভাগই সাধারণ ব্যাংকিং, ঋণ ও আমানত-সংক্রান্ত। এফআইসিএসডিতে জমা হওয়া মোট অভিযোগের ৪০ দশমিক ৫৩ শতাংশ সাধারণ ব্যাংকিং-সংক্রান্ত। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ঋণ ও অগ্রিম-সংক্রান্ত অভিযোগ; যা ১৫ দশমিক ৮২ শতাংশ। এছাড়া ট্রেড বিলসংক্রান্ত অভিযোগ ১৫ দশমিক দুই শতাংশ, কার্ডসংক্রান্ত ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ, মোবাইল ব্যাংকিং-সংক্রান্ত দুই দশমিক ৪৭ শতাংশ, ব্যাংক গ্যারান্টি-সংক্রান্ত দুই দশমিক ৩৯ শতাংশ, রেমিট্যান্স-সংক্রান্ত এক দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং অন্যান্য বিবিধ অভিযোগ ১২ দশমিক ৭০ শতাংশ। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে গ্রাহক সেবায় অসন্তুষ্টি, ব্যাংক কর্মকর্তাদের অসদাচরণ, বৈদেশিক অগ্রিম টিটি’র বিপরীতে রফতানি না হওয়া, যথাসময়ে ব্যাংক শাখা না খোলা, লেনদেনে বিলম্ব হওয়া, ছেঁড়াফাটা নোট বিনিময় করতে অনীহা, ক্ষুদ্র অঙ্কের টাকার নোট বা কয়েন গ্রহণে অনীহা উল্লেখযোগ্য।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *