আতঙ্কে বিহ্বল কাশ্মীরিরা

বিডি নিউজ আই ডেক্স :

কাশ্মীরে হামলার ঘটনায় পরস্পরের বিরুদ্ধে সমানে হুমকি দিয়ে চলেছে ভারত ও পাকিস্তান। বলা চলে, দু’দেশের মধ্যে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পরপর কয়েকটি নির্দেশনা জারি করায় কাশ্মীর উপত্যকায় অনিশ্চয়তার সঙ্গে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

দুবাইভিত্তিক পত্রিকা গালফ নিউজ জানায়, শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেট্রল পাম্পগুলোর সামনে মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

আতঙ্কিত কাশ্মীরিরা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র মজুদ করা শুরু করলে, রাজ্য সরকার তাৎক্ষণিকভাবে রেশন ব্যবস্থায় জ্বালানি বিক্রির ঘোষণা দেয়।

মূলত পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের অচিরেই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা থেকে কাশ্মীর উপত্যকায় এই পরিস্থিতির অবনতি হয়।

কাশ্মীরের জেলা প্রশাসনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তেলের মজুদ কম থাকায় জ্বালানি রেশন ব্যবস্থায় সরবরাহ করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

তার এই ঘোষণায় অবস্থার বিশেষ একটা উন্নতি হয়নি। শ্রীনগরসহ অন্যান্য প্রধান শহরে মানুষকে মজুদের জন্য খাবার ও জরুরি সামগ্রী কিনতে দেখা যায়।

আতঙ্কিত গাড়িচালকরা প্রচণ্ড শীতের মধ্যেও তাদের যানবাহনে তেল ভরার চেষ্টা করেছেন।

সরকারের এমন ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ। এক টুইটে তিনি বলেন, ‘জনমনের আতঙ্ক কমানোর জন্য প্রশাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ। মানুষ দুশ্চিন্তায় একদম গুটিসুটি পাকিয়ে গেছে এবং টিভি নিউজ চ্যানেলগুলোর জল্পনা-কল্পনাও এতে প্রভাব ফেলছে। আশা করি, সরকারের কেউ না কেউ এসব শুনছেন।’

বিজেপি-পিডিপি সরকারের সাবেক মন্ত্রী সাজাদ লোন বলেন, ‘কারও না কারও উচিৎ মানুষকে আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তা থেকে বের করে আনার দায়িত্ব নেয়া। সরকারের উচিৎ একটি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়া। নির্বাচনের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। নির্বাচন আগেও হয়েছে। কিন্তু, বর্তমানের মতো যুদ্ধাবস্থা আগে কখনো দেখা যায়নি।’

শ্রীনগরের আকাশে সামরিক বিমান ও হেলিকপ্টার মুহুর্মুহু টহল দিচ্ছে। সচরাচর এমনটি এখানে খুব বেশি দেখা যেত না। এসব দেখে মানুষ মনে করছে, ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্স পাকিস্তানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের মহড়া দিচ্ছে।

এদিকে, কাশ্মীরের হেলথ সার্ভিসের পরিচালকের একটি জরুরি নির্দেশে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে সব চিফ মেডিকেল অফিসারকে ওষুধ, সার্জারিতে ব্যবহৃত জিনিপত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস রোগীদের স্বার্থে সংগ্রহ করার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে।

সাধারণ মানুষের মনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় শনিবার রাতে কর্তৃপক্ষ একটি বিবৃতি জারি করে মানুষকে কোনো গুজবে কান না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

রাজ্যের কঞ্জুমার অ্যাফেয়ার্স বা ভোক্তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও কাশ্মীরিদের আতঙ্কিত হতে নিষেধ করেছে।

বিডি নিউজ আই ডট কম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *