এটি একটি আবেদন, মানুষ হলে এড়িয়ে যাবেন না…

“দ্রোহ-প্রেম-সম্প্রীতি”

কেউ যদি আমায় প্রশ্ন করে কেন লিখি?
-এক বাক্যে আমার উত্তর, জন্মের দ্বায় থেকে।

সেটা কবিতাই হোক কিংবা সংবাদ। খবরেরকাগজ নয়ত কোন সামাজিক মাধ্যম। বাস্তবিক জীবন লড়াইয়ে মাঝেমধ্যে পরাজিত হই। তবে হার মানতে শিখিনী। মানুষ ইচ্ছে করলেই স্বভাব থেকে বেরুতে পারেনা। চেতনা এবং নীতিগত প্রশ্নে চির আপোষহীন।
ক্ষুদ্র জীবনে সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা আমি নিজেকে; নিজেই ভালোবাসতে পারিনি। অর্জন বলতে একটাই টাকার উপর দিয়ে হাঁটতে শিখেছি। বিত্তবান হওয়ার লোভ চরিত্রনাশ করতে পারে না। দৈন্যতা চরম মাত্রা বিরাজমান সময়। তবুও অদৃশ্যমান ধ্বনি শুনি…
‘তোকে বাঁচতে হবে, লড়তে হবে, গড়তে হব’
হ্যাঁ, এখনো অনেক কিছু বাকি। নিরবে একলা একা ভাবি, কে আমি? কেন এমন হয়! কে ডাকে আমায়-
এ আহবান জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর।

যাই হোক মূল কথায় আসি। টাকার অভাবে নিজে না খেয়ে থাকি। সন্তান আনহা ঔষুধ কিনতে পারি না। গত তিন ঈদ কেটেছে কিডনী হাসপাতালে। তবুও ঈদ এলে পথ শিশু- কিশোরদের জন্য কিছু করার প্রচেষ্টা থাকে। কেননা ওরা আমার প্রান। আমার মেয়ে যখন খুব অসুস্থ। টাকা জোগাতে আমি পাগল প্রায়। তখন একদিন হাঁটছিলাম শীতলক্ষ্যার পাড়ে। হঠাত এক ভিখারি কিশোর দৌড়ে এসে বললো,
মামা, তুমি কেমন আছো? তোমারে এহন মিনারে দেহি না। সাংবাদিক চাকরি ছাইড়া দিছো। তুমি ত আবার ওই যে কি জানি; কবিও হইয়া গেছো।
আমি ওর মুখে তাকালাম। ও আমার মুখ দেখে বললো,
মামা কি হইছে? তোমার মন খারাপ। সিগেট গাইবা।
আমি বললাম, না। আমারে একলা থাকতে দে। তুই এহন যা।
আবার বললো, কি হইছে কও না। আনহার কথা বলতেই ও আমাকে বললো, খাইছে কডনি সমস্যা। তাইলে ত অনেক টেহা লাগবো। মামা আমাগো বস্তির ওনে একটা হুজুর আছে। হুনছি হেয় না কি অনেক ভালা। তুমি যাইও হের কাছে। আমার ত টেহা নাই থাকলে তোমারে পাঁচ হাজার দিতাম।
আমার চোখে পানি ধরে রাখতে পারি নাই। ওকে জড়িয়ে ধরে বললাম তোরা আমাকে মাফ করে দিস, আর আমার মায়ের জন্য দোয়া করিস।

ভাবলাম দীর্ঘদিন সাংবাদপত্রে কাজ করেছি, সংগঠন করেছি, সাহিত্যের উন্নয়ন এ সচেষ্ট ছিলাম। আমার অসময়ে কাছের মানুষ গুলো মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। অথচ…

মেয়ে হাসপাতালে। তবুও, গত ঈদে মানুষিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে এক গেঞ্জির দোকানীর কাছ থেকে ৬টি টি-শার্ট বাকিতে নিয়ে ঈদের আগের দিন বিতরণ করি। লোক দেখানো কিংবা ছবি পোষ্টের জন্য না। ওই যে প্রথমে বলেছিলাম ‘জন্মের দ্বায়’।

২৫ মে। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিবস। এ তারিখেই ভারতে উদ্ভোধন করা হয় বাংলাদেশ ভবন। ১৯৭২ স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে কবি ভবনে পালন করা প্রথম জন্ম উৎসব। তাই কি করা যায়…

অদম্য মানুষ হবার প্রেচষ্টায়-একটি লাইব্রেরি করছি যার নাম অভিযান কুঞ্জ -ovijan Kunja এবং সামাজিক বন্ধণ সৃষ্টিতে আমার স্বপ্নের নাম দিয়েছি Ovijan-অভিযান। যার সাংগঠনিক কাঠামো নির্মানে গঠিত হবে অভিযান কেন্দ্র-ovijan centre
ইচ্ছে ছিলো ইফতার আয়োজনের। কিন্তু ভাবলাম না এর চেয়ে ভালো পথের শিশু-কিশোরদের ঈদের পোষাক দেওয়া যায় কিনা। স্বপ্নযোগ সহযোদ্ধা খন্দকার জনি ভাই সংহতি প্রকাশ করেছেন তার স্বপ্নদ্বীপ সাহিত্য পরিষদ নিয়ে। এছাড়াও সাংবাদপত্র জগৎতে আমার একটি বটবৃক্ষ এম সামাদ মতিন ভাই এবং আমাদের ‘বিডি নিউজ আই ডটকম‘ ত রয়েছেই। ঈদ হোক সকলের। ভালোবাসা সকলের জন্য। ‘জয় বাংলা’, ‘জয় নব উত্থান’…

বিঃদ্রঃ ২৫ মে থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত আমাদের প্রচেষ্টা চলবে। সহযোদ্ধা হতে চাইলে যোগাযোগ করুন।

নজরুল সৈনিক
– কাজী আনিসুল হক-Kaje Anisul Haque

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *