এবার ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে পোস্টার মমতার

হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দল বিজেপির বিপুল বিজয়ের মধ্য দিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো গত ৩০ মে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন নরেন্দ্র মোদি। সেদিনই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ‘জয় হিন্দ’ এর পাশাপাশি ‘জয় বাংলা’কেও তার রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে ঘোষণা করেন।

বাঙালিকে নিজেদের জন্যে লড়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মমতা সেদিন বারবার বলেন, বাংলার সঙ্কটের দিন আজ।

তার কথায়, বাঙালি হিন্দু আর হিন্দিভাষী হিন্দুর মধ্যে দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা হচ্ছে। আমরা অবাঙালিদের কখনো আলাদা করে দেখি না। কিন্তু বাংলায় বাস করে চারশ বাঙালি পরিবার ঘরছাড়া, এ জিনিস কোনো দিন হয়নি বাংলায়। কিন্তু ওরা সেই চেষ্টাই চালাচ্ছে।

সেই সঙ্গে ভিন রাজ্যের সংস্কৃতি বাংলায় আমদানি করার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। মমতা বলেন, আমরা জয় বাংলা বলব, জয় হিন্দ বলব হাজার বার। আপনারাও বলুন।

এবার মমতা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান যুক্ত করে একটি পোস্টার প্রকাশ করেছেন তার ফেসবুক পেজে। ওই পোস্টারে ভারতের সমাজ সংস্কারকদের ছবি ছাপা হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় পোস্টারটি পোস্ট করা হয় মমতার ফেসবুক পেজে।

সেখানে মমতা লিখেছেন, ‘এক শ্রেণির সংবাদমাধ্যমের সাহায্য নিয়ে বিজেপি কর্মীরা ঘৃণার মতাদর্শ ছড়ানোর চেষ্টা করছে। ভুয়া ভিডিও, ভুয়া খবর, ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। রামমোহন রায় থেকে শুরু করে বিদ্যাসাগর পর্যন্ত সমস্ত সমাজ সংস্কারকরা, প্রত্যেকেই বাংলার সম্প্রীতি, বাংলার উন্নতি আর বাংলার অগ্রগতির কথা বলেছেন। কিন্তু বর্তমানে, বিজেপির ঘৃণ্য পরিকল্পনা বাংলাকে খুব খারাপভাবে টার্গেট করার। ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রকে রক্ষা করতে আমরা বিজেপির এই অপচেষ্টাকে রুখে দেওয়ার সবরকম প্রয়াস করব।’

মুখ্যমন্ত্রী মমতা আরও বলেন, সময় এসেছে এসবের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ করার। কোনও রাজনৈতিক কর্মীরই ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে কারও সঙ্গে ঝামেলায় জড়ানো বা হিংসা ছড়ানো উচিত নয়। সব দলেরই উচিত, শান্তি বজায় রাখতে নিজেদের মতো উদ্যোগ নেওয়া।

রাজনৈতিক স্লোগান সম্পর্কে মমতা বলেন, ‘আমার কোনও সমস্যা নেই যদি কোনও রাজনৈতিক দল তাদের সমাবেশে ওই দলের বিশেষ স্লোগান ব্যবহার করে। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব স্লোগান আছে। আমার পার্টির স্লোগান জয় হিন্দ, বন্দে মাতরম। বামেদের ইনকিলাব জিন্দাবাদ। অন্যদেরও ভিন্ন ভিন্ন স্লোগান আছে। আমরা একে অপরকে সম্মান করি।’

এরপির বিজেপির রাজনৈতিক স্লোগানের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, ‘জয় সিয়া রাম, জয় রাম জি কী, রাম নাম সত্য হ্যায়… ইত্যাদির একটা ধর্মীয় ও সামাজিক পরিচয় আছে। আমরা এই অনুভূতিকে সম্মান করি। কিন্তু বিজেপি এই ধর্মীয় স্লোগানগুলির অপপ্রয়োগ করছে। ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান ব্যবহার করে রাজনীতির সঙ্গে ধর্ম মেশাচ্ছে।’

‘কিন্তু বিজেপি যেভাবে জোর করে তাদের স্লোগান অন্যদের ওপর চাপিয়ে দিতে চায় আমরা সেই প্রচেষ্টাকে সম্মান করি না। আর তারা এই চেষ্টা চালায় আরএসএস এর নামে। অথচ বাংলা কখনো আরএসএসকে গ্রহণ করেনি।’

বিজেপি গায়ের জোরে ঘৃণার মতাদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে অভিযোগ করে মমতা এর বিরোধিতা করার ডাকও দিয়েছেন। মমতা লিখেছেন, ‘আমি দেশ ও রাজ্যের সকল মানুষের কাছে আবেদন জানাচ্ছি যে, এই ঘৃণার রাজনীতি বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে আমাদের দেশের মহান সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করার জন্যই।’

মমতার বিরুদ্ধে কয়েকদিন আগে থেকেই বিরোধীরা অভিযোগ করেছিলেন, ‘জয় শ্রীরাম’ বললেই নাকি রেগে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন সাফ জানিয়ে দিলেন, কোনও ধর্মীয় স্লোগানে তাঁর আপত্তি নেই। বরং সব ধর্মের স্লোগানকে তিনি সম্মান করেন। কিন্তু বিজেপি যেভাবে ধর্ম আর রাজনীতিকে মিশিয়ে দিয়ে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে সেই বিভাজনকে রুখতে হবে।’

উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই রাজ্যে বার দুই এমন ঘটনা ঘটেছে যেখানে দেখা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ের সামনে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি তুলছেন বিজেপি সমর্থকরা। চলছে অভব্যতাও। আবার এসব দেখে যারপরনাই রেগে গিয়ে প্রকাশ্যে মেজাজও হারিয়েছেন মমতা। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেসব ভিডিও এখন ভাইরাল। মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রতিক্রিয়া কাজে লাগিয়ে, তাঁকে ‘জয় শ্রীরাম’ তথা হিন্দু বিরোধী বলে প্রচার করার চেষ্টা করছে বিজেপি।সূত্র: কালের কন্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *