‘কিছু ঘটনা আমাদের বিব্রত করে’

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদন সম্পর্কে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী রিয়াজুল হক বলেছেন, ‘‘সিভিল ও পলিটিক্যাল রাইটস-এর কিছু ঘটনা আমাদের বিব্রত করে৷’’ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যানও বলছেন, পরিস্থিতির উন্নতি দরকার৷
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লিউ)-এর ২০১৮ সালের মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে বৃহস্পতিবার৷ তাতে বাংলাদেশ অংশে বিরোধীদের ওপর নির্যাতন, মামলা, বাকস্বাধীনতার ওপর আঘাত, গণমাধ্যমের ওপর চাপ এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা উল্লেখ করা হয়৷ বিশেষ করে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে বিরোধীদের নানা মামলায় আটকের কথা বলা হয় সেখানে৷ সামাজিক আন্দোলনের কর্মীদের ওপর সরকার সমর্থকদের হামলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে৷

প্রতিবেদনের এ সব বিষয় তুলে ধরে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হকের মন্তব্য চাইলে তিনি বলেন, ‘‘এসডিজির (সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল) সঙ্গে মানবাধিকারের বিষযটি জড়িত৷ এসডিজির টার্গেট বাস্তবায়নে আমাদের অনেকগুলো অগ্রগতি আছে৷ এসডিজির ১৭টি গোলের সাথে যে ১৬৯টি টার্গেট আছে, সেগুলো বাস্তবায়নের বিচেনায় আমাদের অবস্থান ভালো৷ তবে সিভিল এবং পলিটিক্যাল রাইটসের ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রগতিটা সেভাবে হয় নাই৷ আমাদের কিছু কিছু ঘটনা আছে, যেগুলো আমাদের বিব্রত করে৷ সিভিল এবং পলিটিক্যাল রাইটসের ক্ষেত্রে যদি আমরা অগ্রগতি করতে পারি, তাহলে মানবাধিকার বিবেচনায় বাংলাদেশ একটি উন্নততর অবস্থায় যেতে পারবে৷’’

কাজী রিয়াজুল হক আরো বলেন, ‘‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা ক্রসফায়ার, মিসিং বা এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স এগুলোর ক্ষেত্রে আরো সতর্কতা অবলম্বন এবং বন্ধ করা প্রয়োজন৷’’

ডিজিটাল আইনের প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের দেশে বাকস্বাধীনতা আছে, তবে এই আইনটি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে এক ধরনের উদ্বেগ আছে৷ আমি আশা করবো এই আইনটির যেন কোনোভাবে অপপ্রয়োগ না হয়, যাতে কোনো সাংবাদিক বা সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার না হয়, যেন কোনো ভয়ের মধ্যে সাংবাদিকরা না থাকেন৷ আর যে-কোনো মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যদি কোনো তথ্য পরিবেশন করেন, তা যেন বস্তুনিষ্ঠ হয়৷’’

রাজনৈতিক অধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নের জায়গা কোথায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘কোনো রকমের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড যাতা না ঘটে, এজন্য এই কাজের সঙ্গে যারা জড়িত, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, অত্যন্ত সতর্কতার সাথে আইনের দৃষ্টিতে যথার্থ বিবেচনায় যদি (তারা) কাজ করে, তাহলে আমরা এই জাতীয় সমালোচনা থেকে মুক্তি পেতে পারি৷ কোনো লোক যদি মিসিং হয়ে যায়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সংবিধানে এবং হাইকোর্টের যে নির্দেশাবলী আছে, সেগুলো যদি যথাযথভাবে পালন করা হয়, তাহলে এই বিষয়ে মানুষের যে শঙ্কা আছে, সেই শঙ্কা থাকবে না৷ তাহলে জানা যাবে, তারা কোথায় আছে৷এটা তার সাংবিধানিক অধিকার৷’’
অডিও শুনুন 01:46
মানবিক উন্নয়ন না হলে কিন্তু উন্নয়ন টেকসই হয় না: ড. মিজানুর রহমান

মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমরা বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ধরপাকড়ের বিষয়ে দেখেছি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অনেকক্ষেত্রেই অতি উৎসাহিত হয়ে অনেক কিছু করেছে, যেগুলো আইনের ব্যত্যয় বলে আমরা মনে করি, যেগুলো কখনোই হওয়া উচিত নয়, কেননা, আইন-শৃঙ্খলা রাক্ষাকারী বাহিনী যদি নিজেই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না থাকে, তাহলে কিন্তু একটি সমাজে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলেও মানবিক উন্নয়ন হয় না৷ এবং মানবিক উন্নয়ন না হলে কিন্তু উন্নয়ন টেকসই হয় না৷’’

তিনি বলেন, ‘‘ডিজিটাল সিকিউরিটি ল’ নিয়ে এখানে এক ধরনের সমালোচনা আগে থেকেই আছে৷ তাই সেটা যাতে বাকস্বাধীনতা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অন্তরায় না হয়, তার প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রয়াজন৷ এটা সংস্কারের কথা সরকারের দিক থেকেও বলা হয়েছে, যা ইতিবাচক৷’’

ড. মিজান বলেন, ‘‘আমরা মানবাধিকার কর্মীরা সব সময়ই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সমালোচনা করে এসেছি৷ এটা মানবাধিকারের লঙ্ঘন৷ এই অবস্থা চলতে পারে না৷ বাংলাদেশ সার্বিকভাবে এগোচ্ছে৷ মানবাধিকারের বিষয়টিও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত৷ এগুলো ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই৷’’

এইচআরডাব্লিউ-র মানবাধিকার প্রতিবেদন নিয়ে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত সরকার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াও জানায়নি৷ আর পুলিশের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *