বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক মিত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মহিউদ্দিন আহমদ খোকা

বিডি নিউজ আই ডেস্ক ॥
ইতিহাস ঐতিহ্যের বানিজ্যিক নগরী নারায়ণগঞ্জ। হাজার বছরের বাংলার প্রাণ প্রাচ্যের ডান্ডি নারায়ণগঞ্জ। পরাধীন বাংলা থেকে স্বাধীন সর্বভৌম বাংলাদেশে কিংবা বর্তমান দেশের প্রধান ক্ষমতাশীল দল “বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ‘র যার প্রতিষ্ঠার অগ্রনায়ক ছিলেন এ জেলার দামাল ছেলেরা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আদর্শিক মিত্র আলহাজ¦ মহিউদ্দিন আহমদ খোকা।
সময়ের চলমান ¯্রােতে হারিয়ে যায় বর্তমান, লোকান্তরিত হয় মানুষের দেহ। কালের বিবর্তনে ইতিহাসে উজ্জল নক্ষত্র হয়ে বেঁচে থাকে মানুষের কৃর্তি¡। এমনই এক মুক্তি পাগল বাঙালী আলহাজ¦ মহিউদ্দিন আহমদ খোকা। ১৯৩৫ সালের ১৬ আগষ্ট লক্ষ্যার পারে নলুয়া উত্তর এলাকার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ততকালীন বিশিষ্ট সমাজ সেবক মরহুম আব্দুল আজিজ এবং মরহুমা গুলশান আরা বেগমের কোল আলোকিত করে জন্ম নেয় এক বিল্পব।
আলহাজ¦ মহিউদ্দিন আহমদ খোকা ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে ৫২’র ভাষা আন্দোলন, আওয়ামীলীগ প্রতিষ্ঠায় অবদান, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মুল ধারার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থেকে জাতির পিতার আস্থা ও ¯েœহভাজন সহচর, ৬৬’র ছয় দফা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যুথান,৭০’র নির্বাচন এবং পাকিস্তানী স্বৈরশাসকদের কবল থেকে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার প্রয়াশে সংগঠিত মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠকের ভুমিকায় তিনি সক্রিয় ছিলেন। ১৯৬৬ সনে তৎকালীন পাকিস্তানী শাসক আইয়ুব খান কর্তৃক “দেশ রক্ষা আইনে” দায়েরকৃত মামলায় নারায়ণগঞ্জের দুইজনের মধ্যে তিনি একজন হিসেবে বঙ্গবন্ধুর সাথে কারাভোগ করেন। জেলে থাকাবস্থায় তার তৃতীয় পুত্র এহছান উদ্দিন আহমদ জুয়েল (৬) কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ^াস ত্যাগ করলে তৎকালীন সরকার তাকে প্যারোলে মুক্তি দেন। মুক্তি পেয়ে তিনি এলাকায় এসে পুত্রের জানাজায় অংশ নেন এবং দাফন শেষে পুনরায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফিরে যান। তিনি সে সময় সকল জাতীয় নেতাদের সাথে জেলে অবস্থান করেন। প্রায় দেড় বছর কারাভোগ করে মুক্তি লাভ করেন। মহিউদ্দিন আহমদ খোকা ছিলেন সর্বকনিষ্ট রাজবন্ধী । তৎকালীন মুসলীমলীগের প্রভাবশালী নেতা এম.এ সবুজ খান খোকা মহিউদ্দিনকে দেখতে ঢাকা সেন্টাল জেলে যান ।
শিল্প-সাহিত্য-সংষ্কৃতি নানামূখি প্রতিভার ভান্ডার আলহাজ¦ মহিউদ্দিন আহমদ খোকা রাজনীতির পাশাপাশি একজন সফল ব্যবসায়ী। স্বাধীনতার আগেই তিনি ব্যবসায় সফলতা অর্জনে সক্ষম হন। স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পপতি। তৎকালীন সময়ে পাট ব্যবসা এবং জানাজানি নামক বাংলা চলচ্চিত্র ছবিটি প্রযোজনার মাধ্যমে চলচ্চিত্র ব্যবসায় যুক্ত হন। স্বাধীনতার পরে তিনি ব্যবসার পরিধি বাঁড়িয়ে গড়ে তোলেন বেশ কিছু শিল্প কারখানা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। যার মধ্যে লক্ষ্যা সল্ট ইন্ডাষ্ট্রিজ, চিত্রলেখা চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থা, গুলশান টেক্সটাইল মিলস, গুলশান সিনেমা হল ও গুলশান মার্কেট, এস.এম বেলিং কোম্পানী লিঃ, তোলারাম প্রেস হাউস, বিশ^ খ্যাত কেমি ঘড়ির এজেন্ট, টিসিবি’র এজেন্ট অন্যতম।
এছাডাও আলহাজ¦ মহিউদ্দিন আহমদ খোকা ততকালীন নারায়ণগঞ্জ সিটি আওয়ামীলীগের নির্বাচিত সাধারন সম্পাদক এবং নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বঙ্গবন্ধু‘র স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় তিনি আমৃত্যু নিবেদিত প্রান। যার বাস্তবায়নে সমাজের উন্নয়নে তিনি প্রতিষ্ঠিত করেছেন নানা শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক-সংষ্কৃতিক সংগঠন।
পাইকপাড়া এলাকার বিশিষ্ট ন্যায় বিচারক হিসেবে খ্যাত মরহুম আব্দুল জলিল সরদার ( সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা) এর জৈষ্ঠ্য কন্যা রওশন আরা বেগম ছিল তাঁর সহধর্মীনি।
তিনি ১৯৯৬ সনের ৬ এপ্রিল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বীর আলহাজ¦ মহিউদ্দিন আহমদ খোকা জীবনের ইতি টানে। তবে তিনি আজও নারায়ণগঞ্জ জেলাবাসীদের মননে বেঁচে আছেন এবং থাকবেন।

উল্লেখ্য, ৬ এপ্রিল শনিবার স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর, ভাষা সৈনিক ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বিশিষ্ট শিল্পপতি আলহাজ¦ মহিউদ্দিন আহমদ খোকা’র ২৩ তম মৃত্যু বার্ষিকী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *