ডাকসু নির্বাচনে কারচুপি, পুনরায় নির্বাচন দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সাবেক শিক্ষার্থীরা

বিডি নিউজ আই ডেক্স :

ডাকসু নির্বাচনে কারচুপি, ভোট ডাকাতির প্রতিবাদ এবং পুনরায় নির্বাচন দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা।

সোমবার বিকেল ৫টার দিকে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতা মানবেন্দ্র দেব বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরেই আমরা আলোচনা করছিলাম, ডাকসু নির্বাচন ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে নাকি ১০ মার্চ রাতে হবে। এরপর মনে হলো না এটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, এখানে এমনটা হবে না। এরপর আগের রাত থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসন ব্যারিকেড দিয়ে দিল। তখন মনে হলো যে, না বহিরাগতরা সেখানে প্রবেশ করতে পারবে না, সুষ্ঠু ভোট হবে। কিন্তু, আমার ধারণা ভুল হলো। প্রশাসনের সহায়তায় নিরাপত্তা ব্যারিকেড দিয়ে ভোট চুরি করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘কুয়েত মৈত্রী হলের ছাত্রীরা প্রমাণ করে দিয়েছেন এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সেখান থেকে জালিয়াতি ও ডাকাতির বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করেছেন। ডাকসু নির্বাচনের এই ভোট ডাকাতি ও জালিয়াতির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কর্মচারী যুক্ত ছিলেন না। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিদ্যা পাঠ করান এবং আদর্শের কথা বলেন সেসব শিক্ষকেরা এই ভোট ডাকাতির সঙ্গে জড়িত।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও ইতিহাসে কোনো হার নেই। সব সময় জয় হয়েছে। আমরা হারতে শিখিনি, ভোট জালিয়াত ও ডাকাতদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে আমরা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবারও জয়ী হবে।’

সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী জুলহাস নাইন বাবু বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের সকল ছাত্র সংগঠন যে এই সরকারের পা চাটা দলে পরিণত হয়েছে, সেটা এবাবের ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো।’

তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের সহায়তায় ডাকসু নির্বাচনে ভোট ডাকাতি ভোট চুরি হয়েছে। তবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলো থেকে ভোট ডাকাতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা হয়েছে। ছাত্র হলগুলোতে তা করা হয়নি। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হলগুলো ক্ষমতাসীন সরকারের ছাত্র সংগঠনের দখলে। সেখানে সাধারণ ছাত্রদের মেরুদণ্ড ভেঙে অকার্যকর ও অচল করে রাখা হয়েছে।’

জুলহাস নাইন বাবু আরও বলেন, ‘আমরা অবিলম্বে এই ডাকসু নির্বাচন বাতিলের দাবি করছি। এই নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হোক।’

সাবেক শিক্ষার্থী সুস্মিতা রায় সুপতি বলেন, ‘গত ৩০ ডিসেম্বর সারা দেশে যেভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ঠিক তেমনভাবেই ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। হলগুলোতে ভোট ডাকাতি ও ভোট চুরি করে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই নির্বাচনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাই শিক্ষার্থীদের ভোট জালিয়াতিতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। রাষ্ট্র ও প্রশাসনের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কলুষ্ঠিত করেছে এই সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। আসুন আমরা সবাই ভোট জালিয়াতির এই ডাকসু নির্বাচনকে বর্জন করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে গিয়ে দাঁড়াই।’

সাবেক শিক্ষার্থী বাকি বিল্লাহ বলেন, ‘যেভাবে আজকে ভোট ডাকাতি হয়েছে। তা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে লজ্জিত। তবে এর মধ্যেও আশার দিক হচ্ছে ক্যাম্পাসে সাহসী শিক্ষার্থীরা এই ভোট ডাকাতির বিরুদ্ধে আন্দোলনের মাধ্যমে জবাব দিচ্ছে। তাদের এই সাহসী আন্দোলনের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের অংশগ্রহণ করা নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করি। আমাদের সবাইকে তাদের আন্দোলনে শরিক হতে হবে।’

সমাবেশ থেকে আগামী তিন দিন কালো পোশাক বা কালো ব্যাচ ধারণ কর্মসূচি দেয়া হয়।

বিডি নিউজ আই ডট কম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *