না’গঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার নতুন কমিটি ও মহিলা ক্রীড়া সংস্থা কি লীজ নেওয়া সংগঠন?

॥হুমায়ুন কবির॥
সমগ্র জেলার খেলাধুলার অভিভাবক সংগঠন নারায়ণগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থা। ১৯৮৪ সালে যার জন্ম। দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে এ সংস্থা খেলাধুলার সবক্ষেত্রে স্বমহিমায় উদ্ভাসিত। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধিভুক্ত সংগঠন হিসেবে বিভিন্ন ফেডারেশনের জাতীয় পর্যায়ের খেলাধুলার তার অংশগ্রহণ অনেক জেলার জন্য ঈর্ষার বিষয়। এরকম একটি সংগঠন দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে সুযোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমেই নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে একথা নিঃসন্দেহ। পুরনো এবং ত্যাগী অনেক ক্রীড়া সংগঠক এ সংস্থার কর্মকর্তা হিসেবে ভুমিকাও পালন করেছেন। যাদের অনেকে না ফেরার দেশের বাসিন্দা। পুরনো কিছু সংগঠকদের সাথে নতুনদের আগমনে সংস্থাটি বর্তমানে একটি ভাল অবস্থানে। তবে এই ভাল অবস্থানটি আরও ভাল হতে পারতো। হয়নি। কারণ পুরনো অনেকেই নতুনদের জায়গা দিতে চাননি। নেতৃত্ব গড়ে উঠার সুযোগও দেননি।
প্রসঙ্গে আসি। কিছুদিন পূর্বে ২০১৯-২৩ সেশনের জন্য নতুন কমিটি নির্বাচিত হয়েছে। নতুন কমিটিতে এমন কিছু লোক এসেছেন যারা কানে কম শোনে,চোখে কম দেখে,কোন্ জায়গায় কোন্ কথা বলতে হবে সে বিষয়ে বে-খেয়াল! সহ-সভাপতি পদে কে,ইউ আকসির যার বয়স প্রায় ৮০ ছুঁই ছুঁই। অন্যের সাহায্য ছাড়া স্বাভাবিক চলাফেরা যার কষ্ট তাকে সহ-সভাপতি রাখাটা বড় প্রশ্ন। আলহাজ¦ খবির আহাম্মেদ শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেও আগের মত ভুমিকা পালন অসম্ভব। তাকেও সহ-সভাপতি করা হয়েছে। এ,জেড,এম ঈসমাইল বাবুলও সহ-সভাপতি হিসেবে বহাল আছেন। বর্তমানে তিনিও শারীরিকভাবে অসুস্থ। ক্রীড়া সংস্থায় তারা কি অলঙ্কার হিসেবে সুযোগ পেয়েছেন! অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক পদে পুঃনবহাল আছেন ইব্রাহিম চেঙ্গিস। এ চারজন আবার জেলা প্রশাসকের কোটায় ক্রীড়া সংস্থায় কাউন্সিলর হয়েছেন। দুষ্ট লোকেরা বলছেন এ চারজন এসেছেন বিশেষ দয়ায়। কারণ এ চারজনের কোন ক্লাবই ছিল না। উল্লেখিত চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদে যারা পুনরায় পুরস্কৃত(!) হয়েছেন বিগত চার বছরে তারা কয়দিন ষ্টেডিয়ামে গিয়েছেন সে প্রশ্ন আপামর ক্রীড়াপ্রেমীদের। বিগত চারটি বছর যত ধরনের খেলাধুলা হয়েছে তাতে উল্লেখিত চারজন সিকিভাগও ভুমিকা রেখেছেন এমন নজীর নেই। তবে অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক পদে থাকা ইব্রাহিম চেঙ্গিস ষ্টেডিয়ামের নতুন বিল্ডিং নির্মাণের ঠিকাদারী কাজটা ঠিকই ভাগিয়ে নিয়েছিলেন! নতুন বিল্ডিংয়ের কাজ হয়েছে নিচুমানের। এতে যা লাভ তার পুরোটাই ইব্রাহিম চেঙ্গিসের। সংস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ সাথে ঠিকাদারী। আর কি প্রয়োজন? নিন্দুকেরা বলে যে ব্যক্তি বাংলাদেশ এ্যাথলেটিক ফেডারেশনের মত একটি সংগঠনে সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন তিনি কিনা তার চেয়ে জুনিয়র তানভীর আহমেদ টিটুর নিচের পদে কিভাবে থাকলেন। আসলে তারা শুধু পদ দখল করেই আনন্দ পান। ক্রীড়া সংস্থার খেলাধুলা কিংবা ভাল-মন্দ দেখার জন্য তাদের সময় নেই।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার যা কিছু উন্নয়ণ চোখে দেখা যাচ্ছে তার পুরো কৃতিত্ব পেতে পারেন একজনই। তিনি হচ্ছেন সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ টিটু। তার সময়েই খেলাধুলায় গতিশীলতার পাশাপাশি স্থাপনার বিষয়টিও অধিক গুরুত্ব পেয়েছে।
সংস্থায় দুজন মহিলা সদস্য আঞ্জুমানারা আকসির ও রোকসানা খবির তারা নিজেরাই বলতে পারবেন কিনা সন্দেহ যে তারা কত বছর ধরে ক্রীড়া সংস্থায় পদ দুটিতে আঠার মত লেগে রয়েছেন! জেলার খেলাধুলায় তাদের কি অবদান এটাতে সবাই না বলার সাথে সাথে তারা নিজেরাও কোন জবাব দিতে পারবেন না এটা নিশ্চিত। এখানে উল্লেখ্য এ দুজন আবার মহিলা ক্রীড়া সংস্থার দুটি বড় পদ চর দখলের মত ধরে রেখেছেন। জেলার মহিলাদের খেলাধুলার কোন্ বিভাগে তারা কি ভুমিকা পালন করছেন সে প্রশ্নও থাকলো। হ্যা তারা এখন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিউটি পার্লার থেকে সেজেগুজে এসে ছবি তোলায় বেশ পারদর্শী! জেলার মহিলা ক্রীড়াবিদেরা কত কষ্ট করে বিভিন্ন খেলায় অংশ নেয়। বিপরীতে তারা সুবিধাবাদীদের জামদানি শাড়ি বা অন্য উপঢৌকন উপহার দিয়ে নিজেদের পদটাকে নিরাপদ রাখেন। তারা মনে হয় সরকারের কাছ থেকে আজীবনের জন্য ঐ পদ দুটোর ইজারা নিয়েছেন! ঐ কমিটিতে তারা এমন কিছু মহিলাদের রেখেছেন যারা জি¦ হুজুর বলতে খুশি। সদস্য পদে রবিউল ও গোলাম গাউছের অর্ন্তভুক্তি প্রশ্নবিদ্ধ। বিগত সময়ে ক্রীড়া সংস্থার কোন একটা কাজে তাদের সামান্যতম ভুমিকা কেউ দেখেনি। সম্প্রতি গাউছের বিরুদ্ধে তার গাবতলী এলাকায় একটি হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ আছে ইসদাইর এলাকার নিরব চাঁদাবাজ ফিরোজ মাহমুদ সামা সম্পর্কে। তার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ সম্পর্কিত সংবাদ স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এ সমস্ত বিতর্কিত লোকদের বাইরে রেখে কমিটি করা তেমন দুরূহ কাজ নয় বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন।
কমিটিতে নতুন মুখ চারজন। মাহবুব বিজন,আতাউর রহমান মিলন ও ডাঃ রকিবুল ইসলাম শ্যামলের বিষয়ে এক কথায় বলা যায় এরা উদ্যোমী ও পরীক্ষিত। খেলাধুলার সাথে এদের সম্পর্ক প্রমাণিত। কিন্তু গৌতম কুমার সাহা! কোন্ খেলায় কবে সে খেলেছে কিংবা যে ভলিবল ক্লাবের সে কাউন্সিলর সে ভলিবল খেলা কিভাবে খেলতে হয় বা নিয়মকানুন সে জানে এটা কেউ বিশ^াস করে না। সে এবার মূল কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছে। বড় প্রশ্ন তার আসল যোগ্যতা কি?
সব সংগঠনই কিছু না কিছু অকর্মা লোকের সমাবেশ ঘটবে এবং এটা একমাত্র এ বাংলাদেশেই! পরিবর্তন এখন বাস্তবতা। যারা নিজেরাই অথর্ব তারা স্বেচ্ছায় নতুনদের পদ ছেড়ে দিবেন এটাই সঠিক। পদ ছাড়বেন তারা! ছাড়বেন না। কারণ পদগুলি তাদের পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া! তারপরও তানভীর আহমেদ টিটুর মত ক্যারিসম্যাটিক নেতৃত্ব ক্রীড়া সংস্থাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। নতুন কমিটি অতীতের ভুল-ত্রুটি শুধরিয়ে সামনে এগিয়ে যাবে এ প্রত্যাশা আমরা জেলার ক্রীড়া প্রেমীরা করতেই পারি।
মতামত লেখকের নিজস্ব।
লেখক:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *