ফতুল্লায় হাইব্রীড আওয়ামী লীগাররা বেপরোয়া

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ফতুল্লার শিবু মার্কেট, সস্থাপুর, কুতুবআইলসহ আশেপাশের এলাকায় নামধারী ও নব্য আওয়ামীলীগারদের দাপট দিন দিন বেড়েই চলছে। নব্যরা আওয়ামীলীগ নেতা পরিচয়ে এলাকাতে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। আর এই আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একের পর এক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।

বিভিন্ন সময়ে নেতা ও দল পরিবর্তন করে স্থানীয় অনেকেই ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। জানাগেছে, কুতুবআইল এলাকার এক সময়রে ত্রাস বলে পরচিতি হাজী আলাউদ্দনিরে ছেলে আক্তার ও সুমন নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে। হাজী আলাউদ্দনি এক সময় বিএনপির কট্টর সর্মথক হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং আওয়ামীলীগসহ ওসমান পরবিাররে বিরোধী হিসেবেই তৎপর ছলিনে। আলাউদ্দনি হাজীর দুই ছেলে আক্তার, সুমন এবং পালিত পুত্র  রতন বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও তারা এখন আওয়ামীলীগের নেতা হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিয়ে আসছে। র‌্যাবের হাতে বিপুল পরিমান মাদকসহ গ্রেফতার হওয়ার পর কিছু দিন আক্তার ও সুমন নিশ্চুপ থাকলেও সম্প্রতি তাদের দাপট বেড়েছে বহুগুণ।

মাদকসহ নানা অপকর্মের মূল হোতা আক্তার ও সুমনের দাপটে এলাকাবাসী অতিষ্ট হয়ে পড়েছে। রামারবাগ এলাকার রাজ্জাক আওয়ামীলীগে যোগ দিয়েই বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। আব্দুর রাজ্জাক বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও একাদশ সংসদ নির্বাচনের পূর্বে হালুয়া-রুটির আশায় আওয়ামীলীগে যোগদান করেছেন। আব্দুর রাজ্জাক কুতুবপুরের চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা মনিরুল আলম সেন্টুর সাথে যুবদলের রাজনীতি থেকে সম্পৃক্ত ছিলো।

সস্তাপুর এলাকায় সাহারা বেগম কবরী এমপি থাকা কালীন সময়ে লাল চাঁন মেম্বারের পুত্র মজিবুর রহমান কবরীর শেল্টারে থেকে ভূমিসদ্যুতা থেকে শুরু করে নানা অপকর্ম করে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বনে গেছেন। পরবর্তিতে সাংসদ শামীম ওসমানের একজন ঘনিষ্টজনকে ম্যানেজ করে শামীম ওসমানের সাথে রাজনীতি শুরু করেন। পদ-পদবী না থাকলেও আওয়ামীলীগ নেতা পরিচয়ে মজিবর রহমানের দাটপ দিন দিন বাড়ছে। মজিবরের ভাতিজা শাহরিয়া রেজা হিমেল একই ভাবে সাংসদ পুত্র অয়ন ওসমানের ঘনিষ্টজনের মধ্যমে তার সাথে রাজনীতি শুরু করেছেন। বিগত সময়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত না থাকলেও বর্তমানে নিজেকে ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছেন। এতে করে ছাত্রলীগের কর্মীদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সূত্র বলছেন, শিবু মার্কেট, সস্থাপুর, কুতুবআইল, রামারবাগসহ আশপাশ এলাকার বিভিন্ন সেক্টর নিয়ন্ত্রনে এলাকাতে উত্তাপ বাড়ছে। এরই মধ্যে গত ২২ মার্চ গিয়াসউদ্দিন ও আজমত আলী গ্রুপের সাথে মোস্তফা গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঐ সংঘর্ষের ঘটনায় গিয়াসউদ্দিন ও আজমত আলীসহ তাদের গ্রুপের ৫৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হলে তারা আত্মগোপনে চলে যায়। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আব্দুর রাজ্জাক, মোস্তফা ও তৈয়ব বাহিনরীর সদস্যরা গিয়াসউদ্দিন ও আজমত আলী নিয়ন্ত্রনে থাকা ঝুট সেক্টর, নিয়ন্ত্রনে তৎপর হয়ে উঠেছেন। ইতোমধ্যে ইন্টারনেটের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে বলেও ফতুল্লা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, মূলত বিভিন্ন সেক্টর নিয়ন্ত্রনে গত ২২ মার্চ সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটেছে। স্থানীয়রা জানান, সাংসদ শামীম ওসমানের ঘনিষ্টজনদের শেল্টারে থেকে শিবু মার্কেট, সস্থাপুর, কুতুবআইল, রামারবাগ এলাকায় নব্য আওয়ামীলীগারদের দাপট দিন দিন বাড়ছে। নব্যদের কারণে স্থানীয় আওয়ামীলীগের ত্যাগীরা কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *