রড-সিমেন্ট ব্যবসা মন্দা ২০ হাজার শ্রমিক বেকার

নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার পাগলায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী মুন্সিখোলা ব্যবসাকেন্দ্র। বর্তমানে ব্যবসা মন্দা যাচ্ছে। এতে করে পাগলার মুন্সিখোলা তার অতীত ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। ব্যাঙের ছাতার মতো বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় রড সিমেন্টের দোকান গড়ে উঠায় মুন্সিখোলার প্রকৃত ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে। এতে করে প্রায় ২০ হাজার ঘাট শ্রমিক বেকার জীবন-যাপন করছে। ইট, বালি, রড, সিমেন্ট এর প্রয়োজনে বিভিন্ন জেলার দূর-দূরন্ত থেকে ব্যবসায়ীরা এই মুন্সিখোলায় আসতেন।

একসময় পাগলার মুন্সিখোলার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলো রাতদিন খোলা রেখে কেনা-বেচা করতো। নদী ঘাটে নোঙ্গর করে থাকতো চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে মালামাল বহনকারী সিমেন্ট, কয়লা, পাথর ভর্তি জাহাজ। রড, সিমেন্ট ব্যবসায়ীদের বড়ই দূর্দিন যাচ্ছে। অনেকেই রড, সিমেন্ট ব্যবসা ছেড়ে ভিটি বালু ব্যবসা করছে। মুন্সিখোলার মদিনা ট্রেডিং, ঢাকা বিল্ডার্স, মোল্লা এন্টারপ্রাইজ, সীমা ট্রেডিং কর্পোরেশন, এহশান এন্টারপ্রাইজসহ এসব প্রতিষ্ঠানগুলো একচেটিয়ে রড, সিমেন্ট ব্যবসা করতো। বর্তমানে মুন্সিখোলার সেই অতীত জৌলুসে ভাটা পরেছে। এখানে আর আগের মতো দূর-দূরান্ত থেকে আগত ক্রেতা ব্যবসায়ীদের দেখা যাচ্ছে না। অনেক দোকান ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানের সার্টার খুলেও সারাদিন ক্রেতা না পাওয়ায় দিন দিন লোকসানের কড়ি গুনছে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, অনেক শিল্প ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে লোনের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলো। ব্যবসা মন্দার কারণে অনেকেই লোনের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুটিয়ে নিচ্ছে।

রড, সিমেন্ট পরিবহনের ট্রাক চালক পরিবহন জড়িত কিন্তু বর্তমানে রড, সিমেন্ট ব্যবসায় ভাটা পড়ায় ট্রাক চালক পরিবহনগুলো তেমন ভাবে ব্যবসা করতে পারছেনা বলে আশা ট্রান্সপোর্টের পরিচালক মোঃ বাবুল আহম্মেদ জানান।

এদিকে মেসার্স নূর জাহান ট্রেডার্সের কর্ণধার প্রবীন ব্যবসায়ী বারেক শিকদার এর সাথে আলাপ করলে বর্তমানের মুন্সিখোলার এই দূরবস্থা’র কথা তুলে ধরেন। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে মুন্সিখোলা ব্যবসা করতে হাপিয়ে উঠছেন অনেক ব্যবসায়ীরা। ইতিমধ্যে বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে।

বন্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে মাসুদ ট্রেডিং কর্পোরেশন, রীতা ট্রেডাস, এসবি এন্টারপ্রাইজসহ অনেক উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে।

মুন্সিখোলা লোড-আনলোড সংগঠনের সভাপতি ছাবের আহম্মদ জানান, বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক বেকার জীবন যাপন করছে। এখানে আর জাহাজ ভর্তি মালামাল তেমন একটা আর আসছেনা। বর্তমানে রড, সিমেন্ট ব্যবসা অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছে। এখন শুধু ভিটি বালু ও আস্তর বালু ব্যবসা দিয়েই চলছে মুন্সিখোলার কর্মব্যস্ত দিন। ভ্যাকু দিয়ে বালি ভরাট ও উত্তোলন-এর কাজ করানো হয়। সাধারণ শ্রমিকরা এখন বেকার হয়ে পড়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *