সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে আবার উত্তপ্ত অ্যাথলেটিকস

বিডি নিউজ আই, ঢাকা: বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর শুরু হয়েছে সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে লবিং-গ্রুপিং। ক্রীড়াঙ্গনের এখন অন্যতম আলোচনা, কে হচ্ছেন অ্যাথলেটিকসের পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক। বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব মন্টু থাকছেন? নাকি তাকে হটিয়ে সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে বসছেন অন্য কেউ?

এই অন্য কেউ’র মধ্যে দু’জন সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। তারা হলেন- সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম চেঙ্গিস ও মোহাম্মদ শাহ আলম। নির্বাচন করবো- তিনজনই এ ঘোষণায় অটল থাকলে আগামী ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে লড়াই হতে পারে ত্রিমুখী। এখন পর্যন্ত যে হাওয়া তাতে তিনজনই অনঢ় সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করার ক্ষেত্রে।

অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নির্বাচনের জন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গঠিত কমিশন খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের মধ্যে দিয়ে নতুন নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তফসিল অনুযায়ী রোববার ছিল খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন। নির্বাচন কমিশন ১২০ জন কাউন্সিলরের নাম প্রকাশ করেছে। যারা বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের আসন্ন নির্বাচনে ভোট প্রয়োগ করবেন।

১২০ কাউন্সিলরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬৮ জন জেলা ও বিভাগের। বাকি কাউন্সিলররা হচ্ছেন বিভিন্ন ক্লাব, সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা বোর্ডের। তবে অন্যসব ফেডারেশনের মতো অ্যাথলেটিকসের নির্বাচনেও বড় ভূমিকা রাখবেন জেলা ও বিভাগের ভোটাররা। কারণ, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক পরিষদের (ফোরাম) ব্যানারে তাদের ঐক্যটা মজবুত। নির্বাচন এলে তারাই নাড়েন কলকাঠি। যে কারণে, তিন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীই ফোরামের আশীর্বাদ নেয়ার চেষ্টা করছেন।

৫ জন সহসভাপতি, ১ জন সাধারণ সম্পাদক, ২ জন যুগ্ম সম্পাদক, ১ জন কোষাধ্যক্ষ ও ১৯ জন সদস্য পদে হবে নির্বাচন। তফসিল অনুযায়ী ২১ ও ২২ জুলাই মনোনয়নপত্র বিতরণ, ২৩ জুলাই মনোনয়নপত্র দাখিল, ২৯ জুলাই চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ এবং ৩ আগস্ট সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পুরনো ভবনের সভাকক্ষে ভোট।

ফেডারেশনের সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৩ সালে। সেই কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। ২০১৭ সালের ২৯ মার্চ ভোটের দিন ঠিক হলেও সে নির্বাচন আর হয়নি। পরে ২০১৭ সালের ১৫ মার্চ অ্যাডহক কমিটি গঠন করে ক্রীড়া পরিষদ। অ্যাডহক কমিটিকে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের নির্দেষনা দেয়া হলেও পার হয়ে গেছে প্রায় আড়াই বছর। অর্ধযুগ পর আবার হতে যাচ্ছে অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নির্বাচন।

বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব মন্টু এবং সাকেব দুই সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম চেঙ্গিস ও মোহাম্মদ শাহ আলম সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার ঘোষণা প্রসঙ্গে ফেডারেশনের সভাপতি সাবেক সচিব এএসএম আলী কবীর বলেন, ‘আমি মনে করি, একটা প্যানেল হলে ভালো হতো। কারণ, এমনিতেই অ্যাথলেটিকসে কাজের মানুষ কম। ভোটের লড়াই হলো কাজের মানুষগুলো ভাগ হয়ে যাবে। যারা জিততে পারবেন না তাদের সেবা পাওয়া যাবে না। আমাদের ক্রীড়াঙ্গনে এটাই রেওয়াজ, হারলে আর আসেন না।’

আপনি কি সমঝোতার কোনো উদ্যোগ নিয়েছেন? ‘আমি বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব মন্টু ও মোহাম্মদ শাহ আলমের সঙ্গে কথা বলেছি; কিন্তু কোনো কাজ হবে বলে মনে হয় না। কেউ ছাড়তে চাচ্ছে না। দু’জনই সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করার ক্ষেত্রে অনঢ়। আমি উদ্যোগ নিতে পারি। কিন্তু কাউকে তো জোর করতে পারি না’- বলেছেন ফেডারেশনের সভাপতি।

বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব মন্টু বলেছেন, ‘আমি নির্বাচন করবো এবং সাধারণ সম্পাদক পদে। এই দুই বছর যেভাবে কাজ করেছি তাতে আমি নির্বাচনের পক্ষে। সমঝোতার যে প্রচেষ্টা চলছিল সেটা হবে না মনে হয়। তাছাড়া আমি নির্বাচন করলে আমি সাধারণ সম্পাদক পদেই করবো।’

সর্বশেষ নির্বাচিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম চেঙ্গিস জাগো নিউজকে বলেছেন, ‘আমি সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করবো। অন্য কেউ হয়তো করবেন। সবারই অধিকার আছে। তাছাড়া এখানে তো মারামারি কাটাকাটির কিছু নেই। আমরা খেলোয়াড় ছিলাম, সব কিছুই স্পোর্টিংলি নেবো। অন্য প্যানেলও থাকবে হয়তো। আমার প্যানেল নিয়ে আলোচনা চলছে। কয়েকদিনের মধ্যে একটা অবস্থানে দাঁড়াবে সব কিছু।’

জানা গেছে ভেতরে ভেতরে সমঝোতার চেষ্টাও চলছে। তেমন যদি কিছু হয় তখন আপনার ভূমিকা কি থাকবে? দুইবারের নির্বাচিত সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম চেঙ্গিসের জবাব, ‘আমার মনে হয় এ উদ্যোগ ফলপ্রসু না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাছাড়া হোক না নির্বাচন। সেটা হলেই তো ভালো হবে।’

আরেক সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম কোনোভাবেই তার ঘোষণা থেকে সরে যেতে রাজী নন। বলেছেন, ‘আমি সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করবো সেটা ১০০ ভাগ নিশ্চিত। আমার সঙ্গে অনেক সাকেব অ্যাথলেট আছেন। আছেন জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পাওয়া সংগঠকরাও। বর্তমান নির্বাহী কমিটির ৫০ থেকে ৬০ ভাগ মানুষ আমার পাশে আছেন।’

ঐক্যমতের একটা প্যানেল নিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে সে প্রসঙ্গে কি বলবেন? ‘সভাপতি আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। শুনেছি বর্তমান সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গেও কথা বলেছেন। তিনি অভিভাবক হিসেবে উদ্যোগ নিতেই পারেন। কিন্তু সবাই বিচার মানতে চান ‘তালগাছ নিজে’র রেখে। আমি সাধারণ সম্পাদক পদে লড়বো এতটুকু বলতে পারি’- বলেছেন আগে দুইবার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা মোহাম্মদ শাহ আলম।সূত্র: জাগো নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *