সিগারেটের উচ্ছিষ্ট ধ্বংস করছে উদ্ভিদ : গবেষণা

বিডি নিউজ আই ঢাকা : সিগারেট মানবদেহের অনেক ক্ষতি করে থাকে এই তথ্য সবারই জানা। আলসার থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার এবং হৃদরোগের মতো ভয়াবহ কিছু রোগে আক্রান্ত হতে পারেন ধূমপান করার কারণে। তবে ধূমপান করার কারণে শুধু যে শারীরিক ক্ষতিই হয় তা কিন্তু নয়। এই বদ অভ্যাসের কারণে পরিবেশেরও মারাত্মক ক্ষতি হয়ে থাকে বলে গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে অনেকবার। সম্প্রতি একটি গবেষণার ফলাফলে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ তথ্য। সিগারেটের ফেলে দেওয়া অংশ উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে বাধার কারণ হতে পারে।

অ্যাংগোলিয়া রাসকিন ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণা থেকে এমনই এক তথ্য পাওয়া গেছে। এই গবেষণার ফলাফলে বলা হচ্ছে, মাটিতে বীজ থেকে অঙ্কুরোদগম হওয়ার সম্ভাবনা শতকরা ২৭-২৮ ভাগ কমে যাচ্ছে শুধুমাত্র মাটিতে সিগারেটের ফেলে দেওয়া বাটের কারণে। ঘাস জাতীয় উদ্ভিদের ক্ষেত্রে এটি আরও বিরূপ প্রভাব ফেলছে। ঘাসের অঙ্কুরোদগম হ্রাসের পাশাপাশি এটি ঘাসের স্বাভাবিক বৃদ্ধি কমিয়ে ফেলে প্রায় ১৩ ভাগ।
বর্তমানে সারাবিশ্বে প্রতি বছর কমপক্ষে সাড়ে চার ট্রিলিয়ন সিগারেটের টুকরা ফেলা হয়। এটিকে বিজ্ঞানীরা উদ্ভিদের জন্য সবচেয়ে বড় প্লাস্টিক দূষণ হিসেবে দেখছেন। সিগারেটের গোড়ায় থাকে সেলুলোজ অ্যাসিসেট ফাইবারের তৈরি একটি বায়োপ্লাস্টিকের ফিল্টার। গবেষণা বলছে, তামাকের বিষক্রিয়ার চেয়ে এটি বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে উদ্ভিদের জন্য।
গবেষণাটি ইকোটক্সিকোলজি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সেফটি নামক একটি বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশ করা হয়েছে। গবেষকরা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যামব্রিজ শহরে গবেষণার জন্য নমুনা সংগ্রহ করতে নামেন। ক্যামব্রিজ শহর এবং এর আশেপাশে প্রতি বর্গমিটারে ১২৮টি সিগারেটের বাট পাওয়া গেছে। যা পৃথিবীর ভবিষ্যতের জন্য খুব একটা সুখকর হবে না বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
গবেষণাটির নেতৃত্ব দেয়া ড্যানিয়েল গ্রিন জানান, “সিগারেটের টুকরা যত্রতত্র ছুঁড়ে ফেলার যে সংস্কৃতি রয়েছে তা পৃথিবীর জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হতে যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, “আমাদের গবেষণার বিষয় ছিল উদ্ভিদের ওপর সিগারেটের বাট কী ধরনের প্রভাব ফেলে সেটি খুজে বের করা। কিন্তু এর যা ফলাফল বের হয়েছে তাতে আমরা শঙ্কিত।”
গবেষকদের দেওয়া তথ্যমতে, সিগারেটের বাট উদ্ভিদ গজাতে এবং বেড়ে উঠতে বিরূপ প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে ঘাস এবং বিভিন্ন ধরনের গুল্মের ক্ষেত্রে এটি বেশি প্রভাব বিস্তার করে বলে জানিয়েছেন তারা। অনেক বেশি মানুষ সিগারেট খাওয়ার ব্যাপারে সচেতন হলেও এই অভ্যাসটি মানুষের মধ্যে দিনকে দিনকে বেড়েই চলেছে। অনেক দেশে আইন করে নিষিদ্ধ করা হলেও সিগারেট ঠিকই ঘুরছে মানুষের ঠোঁটে ঠোঁটে।
যদিও গবেষকরা বলছেন এই পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখতে ধূমপায়ীদের এগিয়ে আসতে হবে দ্রুত। তাদেরকে এই বদ অভ্যাসটি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। শহরের রাস্তা ঘাট থেকে শুরু করে নদী বা সমুদ্রেও সিগারেটের এই উচ্ছিষ্টাংশ ফেলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকরা।
সূত্র : বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *