স্বজনপ্রীতিতে ডুবছে বিবি মরিয়ম স্কুল!

নারায়ণগঞ্জ: প্রশ্নফাঁস, দূর্নীতি ও স্বজনপ্রীতিতে ডুবছে বিবি মরিয়ম কেজি স্কুল। স্কুলটি দীর্ঘদিন সুনামের সাথে চললেও বর্তমানে এক শ্রেণীর অসাধু শিক্ষকদের অর্থলিপ্সা স্কুলটিকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ফাঁস যেন স্কুলটির রুটিনে পরিণত হয়েছে। কয়েকজন অসাধু শিক্ষক তাদের ‘টিউটরশীপ’ বাচাঁতে পরীক্ষার আগেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে প্রশ্ন তুলে দিচ্ছেন। এতে মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থীরা আশানুরূপ ফলাফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

কয়েকজন অভিভাবক জানান, রিকো নামের ওই স্কুলের একজন অফিস ক্লার্ক সহকারী শিক্ষক হ্যাপীর হয়ে প্রশ্নফাঁস করছেন। তাদের দাবি, শুধুমাত্র স্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানোর জন্য হ্যাপী এসব কাজ করছেন। অল্প কয়েকদিনে এ অনৈতিক সুবিধা দিয়ে তিনি স্কুলের প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীকে নিজের বগলদাবা করেছেন। এতে করে মাসেই তিনি লাখ টাকা আয় করছেন।

স্কুলে নিয়মিত যাতায়াতকারী কয়েকজন অভিভাবক জানান, স্কুলটির অধ্যক্ষ মুক্তারা বেগম ও অন্যরা বেশ সুনামের সাথে স্কুলটি চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু কয়েকজন নতুন শিক্ষক চাকরীতে আসার পরে দৃশ্যপট পাল্টে যায়। তারা এসেই শিক্ষাবাণিজ্য শুরু করেন। এমনকি স্কুলের বেশ কিছু আলমারীর চাবিও চলে যায় অফিস ক্লার্ক রিকোর হাতে। শুরু হয় প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা।

তারা আরও জানান, স্কুলটিকে স্বজনপ্রীতি ও আত্মীয়করণ এমন প্রকট যে এখানে যেন নিয়মনীতির বালাই নেই। নেই একাডেমীক শৃঙ্খলাও। ১১জন শিক্ষকের মধ্যে একই পরিবারে চারজনই চাকরি করছেন এই প্রতিষ্ঠানে। শিক্ষক ফাহমিদা আক্তার, নাদিরা সুলতানা, অফিসক্লার্ক রিকো পরস্পর বোন। এছাড়াও স্কুলের অপর শিক্ষক আকলিমা আক্তার অধ্যক্ষের ভাগিনার বৌ। আবার নাদিরা বেগম পারিবারিক সদস্য।

স্কুলের কয়েকজন অভিভাবক জানান, মুক্তারা বেগম উচ্চ মাধ্যমিক পাস হলেও ব্যক্তিগত পরিচয় ও পরিবারকরণের কারণে এ পদে বহাল আছেন।

বুধবার এ বিষয়ে স্কুলটির অধ্যক্ষ মুক্তারা বেগমকে মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার ফোন দিলেও প্রত্যেকবারই ফোনে সমস্যা কিছুই শুনতে পাচ্ছেন না বলে ফোন কেটে দেন।
অন্যদিকে স্কুল কমিটির সভাপতি জসিম উদ্দিনের মুফোফোনে কয়েকবার চেষ্টা করেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *