“১৪২৬ বঙ্গাব্দে হোক আমাদের অঙ্গিকার, উদ্ভাবক কবি ফতেউল্লাহ্ সিরাজী’কে দিতে হবে সম্মান-অধিকার”

শাহ্ ফতেউল্লাহ্, বাংলা নববর্ষ এবং কাজী নজরুল…

কাজী আনিসুল হক ॥
‘ঐ নূতনের কেতন ওড়ে এলো ঐ কাল-বৈশাখীর ঝড় / তোরা সব জয় ধ্বনি কর! তোরা সব জয় ধ্বনি কর!’ নতুনকে পাওয়ার আনন্দের মাঝে জাতীয় চেতনারা কবি কাজী নজরুল ইসলামের মত বাঙ্গালি কিংবা বাংলাদেশি‘র এবং বাংলা ভাষাভাষীর হৃদয়ে দোলা দেয় প্রতি বছর নববর্ষ। বাংলা বর্ষবরণ যার পরিক্রমায় এবার পালিত হচ্ছে ১৪২৬ বঙ্গাব্দ। তবে এই বঙ্গাব্দ উদ্ভাবক হযরত শাহ্ ফতেউল্লাহ্ (রঃআঃ) ঘুমিয়ে আছেন নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা এলাকায়।
তার নাম অনুসারে ‘ফতুল্লা’ নামকরন করা হয়। অথচ বাংলাদেশ সরকার কিংবা বাংলা একাডেমী কেউ এখনো পর্যন্ত কবি ফতেউল্লাহ্ সিরাজী{হযরত শাহ্ ফতেউল্লাহ্ (রঃআঃ)} রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করে নাই। যা আমাদের জন্য নিতান্ত্যই দু:খ জনক। নারায়ণগঞ্জ এর মাটিতে ঘুমিয়ে থাকা কবি ফতেউল্লাহ্ সিরাজী{হযরত শাহ্ ফতেঊল্লাহ্্ (রঃআঃ)} যেমন আমাদের জন্য পরম পাওয়ার, তেমনি পহেলা বৈশাখ কিংবা বাংলা নববর্ষ পালনে তাকে যথাযোগ্য সম্মান-মূল্যায়ন না করাও দু:খ জনক। পয়লা বৈশাখ বা পহেলা বৈশাখ (বাংলা পঞ্জিকার প্রথম মাস বৈশাখের ১ তারিখ) বাংলা সনের প্রথম দিন, তথা বাংলা নববর্ষ। দিনটি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নববর্ষ হিসেবে বিশেষ উৎসবের সাথে পালিত হয়। ত্রিপুরায় বসবাসরত বাঙালিরাও এই উৎসবে অংশ নিয়ে থাকে। সে হিসেবে এটি বাঙালিদের একটি সর্বজনীন লোকউৎসব হিসাবে বিবেচিত। গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে ১৪ই এপ্রিল অথবা ১৫ই এপ্রিল পহেলা বৈশাখ পালিত হয়। আধুনিক বা প্রাচীন যে কোন পঞ্জিকাতেই এই বিষয়ে মিল রয়েছে। বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৪ই এপ্রিল এই উৎসব পালিত হয়। বাংলা একাডেমী কর্তৃক নির্ধারিত আধুনিক পঞ্জিকা অনুসারে এই দিন নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এছাড়াও দিনটি বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ছুটির দিন হিসেবে গৃহীত। বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা দিনটি নতুনভাবে ব্যবসা শুরু করার উপলক্ষ হিসেবে বরণ করে নেয়। যা বাংলা ঐতিহ্যে হাল খাতা নামে পরিচিত। বাংলাদেশ এবং পূর্ব ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও ত্রিপুরা অঞ্চলে এই বর্ষপঞ্জি ব্যবহৃত হয়। বঙ্গাব্দ শুরু হয় পহেলা বৈশাখ বা বৈশাখ মাসের প্রথম দিনে। বঙ্গাব্দ সব সময়ই গেৃগরীয় বর্ষপঞ্জীর চেয়ে ৫৯৩ বছর কম। বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী আজকের তারিখ হল ৩০ চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ। বঙ্গাব্দ, বাংলা সন বা বাংলা বর্ষপঞ্জি হল বঙ্গদেশের একটি ঐতিহ্য মন্ডিত সৌর পঞ্জিকা ভিত্তিক বর্ষপঞ্জি। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সৌরদিন গণনা শুরু হয়। পৃথিবী সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরে আসতে মোট ৩৬৫ দিন কয়েক ঘণ্টা সময়ের প্রয়োজন হয়। এই সময়টাই এক সৌর বছর। গেৃগরীয় সনের মতন বঙ্গাব্দেও মোট ১২ মাস। এগুলো হল বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র, আশ্বিন, কার্তিক, অগৃহায়ণ, পৌষ, মাঘ, ফাল্গুন ও চৈত্র। আকাশে রাশিম-লীতে সূর্যে অবস্থানের ভিত্তিতে বঙ্গাব্দের মাসের হিসাব হয়ে থাকে।  যেমন যে সময় সূর্য মেষ রাশিতে থাকে সে মাসের নাম বৈশাখ। হিন্দু সৌর পঞ্জিকা অনুসারে বাংলা বার মাস অনেককাল আগে থেকেই পালিত হতো। এই সৌর পঞ্জিকার শুরু হতো গেৃগরীয় পঞ্জিকায় এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময় হতে। হিন্দু সৌর বছরের প্রথম দিন আসাম, বঙ্গ, কেরল, মনিপুর, নেপাল, উড়িষ্যা, পাঞ্জাব, তামিল নাড়ু এবং ত্রিপুরার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অনেক আগে থেকেই পালিত হত। এখন যেমন নববর্ষ নতুন বছরের সূচনার নিমিত্তে পালিত একটি সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে, এক সময় এমনটি ছিল না। তখন নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ আর্তব উৎসব তথা ঋতুধর্মী উৎসব হিসেবে পালিত হত। তখন এর মূল তাৎপর্য ছিল কৃষিকাজ, কারণ প্রাযুক্তিক প্রয়োগের যুগ শুরু না হওয়া পর্যন্ত কৃষকদের ঋতুর উপরই নির্ভর করতে হত। ভারতবর্ষে মুঘল স¤্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পর স¤্রাটরা হিজরী পঞ্জিকা অনুসারে কৃষি পণ্যের খাজনা আদায় করত। কিন্তু হিজরি সন চাঁদের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় তা কৃষি ফলনের সাথে মিলত না। এতে অসময়ে কৃষকদেরকে খাজনা পরিশোধ করতে বাধ্য করতে হত। খাজনা আদায়ে সুষ্ঠুতা প্রণয়নের লক্ষ্যে মুঘল স¤্রাট আকবর বাংলা সনের প্রবর্তন করেন। তিনি মূলত প্রাচীন বর্ষপঞ্জিতে সংস্কার আনার আদেশ দেন। স¤্রাটের আদেশ মতে তৎকালীন বাংলার বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদ কবি ফতেঊল্লাহ্্ সিরাজী{হযরত শাহ্ ফতেঊল্লাহ্্ (রঃআঃ)} সৌর সন এবং আরবি হিজরী সনের উপর ভিত্তি করে নতুন বাংলা সনের নিয়ম বিনির্মাণ করেন। ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ই মার্চ বা ১১ই মার্চ থেকে বাংলা সন গণনা শুরু হয়। তবে এই গণনা পদ্ধতি কার্যকর করা হয় আকবরের সিংহাসন আরোহণের সময় (৫ই নভেম্বর, ১৫৫৬) থেকে। প্রথমে এই সনের নাম ছিল ফসলি সন, পরে বঙ্গাব্দ বা বাংলা বর্ষ নামে পরিচিত হয়। ইতিহাস বঙ্গাব্দের সূচনা সম্পকেও ২টি মত চালু আছে। প্রথম মত অনুযায়ী- প্রাচীন বঙ্গদেশের ( গৌড়) রাজা শশাঙ্ক (রাজত্বকাল আনুমানিক ৫৯০-৬২৫ খ্রিস্টাব্দ) বঙ্গাব্দ চালু করেছিলেন। সপ্তম শতাব্দীর প্রারম্ভে শশাঙ্ক বঙ্গদেশের রাজচক্রবর্তী রাজা ছিলেন। আধুনিক বঙ্গ, বিহার এলাকা তাঁর সা¤্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল৷ অনুমান করা হয় যে, জুলীয় বর্ষপঞ্জীর বৃহস্পতিবার ১৮ মার্চ ৫৯৪ এবং গেৃগরীয় বর্ষপঞ্জীর শনিবার ২০ মার্চ ৫৯৪ বঙ্গাব্দের সূচনা হয়েছিল। দ্বিতীয় মত অনুসারে, ইসলামী শাসনামলে হিজরী পঞ্জিকা অনুসারেই সকল কাজকর্ম পরিচালিত হত। মূল হিজরী পঞ্জিকা চান্দ্র মাসের উপর নির্ভরশীল। চান্দ্র বৎসর সৌর বৎসরের চেয়ে ১১/১২ দিন কম হয়। কারণ সৌর বৎসর ৩৬৫ দিন, আর চান্দ্র বৎসর ৩৫৪ দিন। একারণে চান্দ্র বৎসরে ঋতুগুলি ঠিক থাকে না। আর বঙ্গদেশে চাষাবাদ ও এ জাতীয় অনেক কাজ ঋতুনির্ভর। এজন্য  মোগল স¤্রাট আকবরের সময়ে প্রচলিত হিজরী চান্দ্র পঞ্জিকাকে সৌর পঞ্জিকায় রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স¤্রাট আকবর ইরান থেকে আগত বিশিষ্ট জ্যোতির্বিজ্ঞানী আমির ফতুল্লাহ্ সিরাজীকে হিজরী চান্দ্র বর্ষপঞ্জীকে সৌর বর্ষপঞ্জীতে রূপান্তরিত করার দায়িত্ব প্রদান করেন। ফতুল্লাহ সিরাজীর সুপারিশে পারস্যে প্রচলিত ফার্সি বর্ষপঞ্জীর অনুকরণে ৯৯২ হিজরী মোতাবেক ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে স¤্রাট আকবর হিজরী সৌর বর্ষপঞ্জীর প্রচলন করেন। তবে তিনি ঊনত্রিশ বছর পূর্বে তার সিংহাসন আরোহনের বছর থেকে এ পঞ্জিকা প্রচলনের নির্দেশ দেন। এজন্য ৯৬৩ হিজরী সাল থেকে বঙ্গাব্দ গণনা শুরু হয়। ৯৬৩ হিজরী সালের মুহররম মাস ছিল বাংলা বৈশাখ মাস, এজন্য বৈশাখ মাসকেই বঙ্গাব্দ বা বাংলা বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস এবং ১লা বৈশাখকে নববর্ষ ধরা হয়। সংস্কারকৃত বাংলা বর্ষপঞ্জী বাংলা একাডেমী কর্তৃক বাংলা সন সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয় ১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬ সালে। ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র নেতৃত্বে এ কমিটি বিভিন্ন বাংলা মাস ও ঋতুতে গৃামীণ জনগোষ্ঠীর আর্থ-সাংস্কৃতিক জীবনে কিছু সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতাকে নির্ণয় করে সেগুলো হতে উত্তরণের প্রস্তাবনা প্রদান করেন। বাংলা সনের ব্যাপ্তি গেৃগরীয় বর্ষপঞ্জীর মতনই ৩৬৫ দিনের। যদিও সেখানে পৃথিবীর সূর্যকে প্রদক্ষিণের পরিপূর্ণ সময়কেই যথাযথভাবে নেয়া হয়েছে। এই প্রদক্ষিণের মোট সময় ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট এবং ৪৭ সেকেন্ড। এই ব্যবধান ঘোচাতে গেৃগরীয় বর্ষপঞ্জীর প্রতি চার বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে একটি অতিরিক্ত দিন যোগ করা হয়। ব্যতিক্রম হচ্ছে সে শতাব্দীতে যে শতাব্দীকে ৪০০ দিয়ে ভাগ করা যায় না বা বিভাজ্য। জ্যোতির্বিজ্ঞান নির্ভর হলেও বাংলা সনে এই অতিরিক্ত দিনকে আত্মীকরণ করা হয়নি। বাংলা মাস অন্যান্য সনের মাসের মতনই বিভিন্ন পরিসরের হয়ে থাকে। এই সমস্যাগুলোকে দূর করার জন্য ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ কমিটি বাংলা একাডেমীর কাছে কতকগুলো প্রস্তাব  পেশ করে। এগুলো হচ্ছেঃ-
০১. বছরের প্রথম পাঁচ মাস অর্থাৎ বৈশাখ হতে ভাদ্র হবে ৩১ দিনের।
০২. বাকী মাসগুলো অর্থাৎ আশ্বিন হতে চৈত্র হবে প্রতিটি ৩০ দিনের মাস।
০৩.প্রতি চতুর্থ বছরের ফাল্গুন মাসে অতিরিক্ত একটি দিন যোগ করে তা হবে ৩১ দিনের।
বাংলাদেশে বাংলা একাডেমী সরকারীভাবে এই সংশোধিত বাংলা মাসের হিসাব গৃহণ করে। যদিও ভারতের পশ্চিম বাংলায় পুরনো বাংলা সনের প্রচলনই থেকে গেছে।
বৈশাখ বাংলা সনের প্রথম মাস। সম্রাট আকবরের সময় আমীর ফতেঊল্লাহ্ সিরাজী কর্তৃক হিজরী সনকে ভিত্তি করে প্রবর্তিত বাংলা সনের বারো মাসের মধ্যে বৈশাখ একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ মাস। এই বৈশাখ মাসেই বাংলাদেশের প্রকৃতি বড় ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। প্রচন্ড ঝড়ো-হাওয়া এই বৈশাখ মাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। যেহেতু বৈশাখ মাসে ঝড় হয় তাই এই ঝড়ের নাম দেয়া হয় কালবৈশাখী। প্রচন্ড দমকা হাওয়া আর বর্জ্রপাত যেন এই কালবৈশাখী ঝড়ের মূল উপাদান। ঝড়ে মানুষের ঘর বাড়ি ভেঙে যায়। দমকা হাওয়ার প্রকোপে উড়ে যায় ঘরের চালা, ভেঙে যায় গাছপালা। তবে দমকা হাওয়ার সাথে বৃষ্টিও হয়। বৃষ্টির পরশে ভিজে যায় মাটি, উর্বর হয়। নতুন বীজের অঙ্কুরোদগম হয়। গাছের মরা পাতা, শুকনো ডাল ভেঙে পড়ে। গাছে গাছে গজে ওঠে নতুন পাতা। এই বৈশাখ মাসে আবার প্রচুর পরিমাণে রসালো ফল পাওয়া যায়। আম, জাম কাঁঠাল, কলা, লিচু প্রভৃতি ফলের মধু-রসে তৃপ্ত হয় বাঙালিদের ভোজন বিলাসী রসনা। বোধ করি, সে জন্যই কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন- কালবৈশাখী ঝড় কেবল ধ্বংসই ডেকে আনে না নতুন প্রাণের সঞ্চারও করে। নতুন সবুজ পত্র পল্লবে সুশোভিত করে প্রকৃতি। এ যেন ধ্বংসস্তুপের ওপর দাঁড়িয়ে নতুন পাতাকার উত্তোলন। কী বিজয়! কী সুখ! কী আনন্দ! কী উল্লাস! তাই তো কবি বলেছেন- ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’। এ যে পরমানন্দ! ঠিক যেমন অনেক ব্যথা বেদনা সহ্য করে সন্তান জন্ম দেয়ার পর বিজয়ের হাসি হাসেন ক’জন মমতাময়ী ‘মা’। তারপর ক্লান্ত পৃশ্রান্ত মুখের পরে উথলে পড়ে খুশির ঝিলিক। মা হাসেন। আত্মীয়-স্বজন পাড়া-প্রতিবেশী সকলকেই হাসান, সকলেই খুশি হন নতুন সন্তানের মুখ দেখে। সকলেই ভুলে যান মায়ের ব্যথা বেদনার কথা। এমনকি নিজের নাড়ি ছেঁড়া ধনের মুখ দেখে মা নিজেও ভুলে যান প্রসব বেদনা। রক্তের সাগরে ভাসতে ভাসতে হেসে ওঠেন বিজয়ের হাসি।
কবি নজরুল মনে করেন- কালবোশেখী যেন কোন প্রলয় নয়, এ ধ্বংস যেন ধ্বংস নয়, এ যেন পুরাতনের বিনাশ- অন্যায়, অবিচার, কুসংস্কার, ভীরুতা ও কাপুরুষতার বিনাশ। এ যেন নতুন সৃষ্টির উন্মাদনা। এ যেন নতুন জীবন জন্মদানের বেদনা। এ যেন নতুন বিপ্লবের অপ্রতিরোধ্য সূচনা। তাই তো কবি লিখেছেন-
ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর? প্রলয় নূতন গৃজন বেদন,
আসছে নবীন জীবন হারা অসুন্দরের করতে ছেদন।
তাই সে এমন কেশে বেশে
প্রলয় হয়েও আসছে হেসে/মধুর হেসে
ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চিরসুন্দর
তোরা সব জয়ধ্বনি কর!
তোরা সব জয়ধ্বনি কর!!
ঐ ভাঙা গড়া খেলা যে তার কীসের তবে ডর?
তোরা সব জয়ধ্বনি কর!    [প্রলয়োল্লাস]
১৪২৬ বঙ্গাব্দ। বাংলাদেশ সরকার কিংবা বাংলা একাডেমী কেউ এখনো পর্যন্ত কবি ফতেঊল্লাহ্্ সিরাজী{হযরত শাহ্ ফতেঊল্লাহ্্ (রঃআঃ)} রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না দেওয়া আমাদের জন্য নিতান্ত্যই দু:খজনক। তেমনি পহেলা বৈশাখ কিংবা বাংলা নববর্ষ পালনে রবী ঠাকুরের গান “এসো হে বৈশাখ এসো এসো” উচ্চারনও আমাদের একটি ভুল। কেননা নববর্ষ চৈত্র সংক্রান্তি নয়।  পহেলা বৈশাখে ‘বৈশাখ’কে নতুন করে আহবান করার কিছু নেই। বিশ্ব যেখানে প্রতিনিয়ত আধুনিকতায় উর্দ্ধমুখি। প্রযুক্তি নির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশে আমরা এবং আমাদের আগামীকে নিশ্চই নিম্মগামী করবো না।
বর্তমানে সারাদেশে নানা আনুষ্ঠানিকতায় পালন করা হয় পহেলা বৈশাখ কিংবা বাংলা নববর্ষ। অদৃশ্য কারনেই কবি ফতেঊল্লাহ্্ সিরাজী{হযরত শাহ্ ফতেউল্লাহ্্ (রঃআঃ)} রয়ে গেছে পর্দার আড়ালে। তাই এবারেও “বাংলা নববর্ষে এই হোক আমাদের অঙ্গিকার, উদ্ভাবক কবি ফতেউল্লাহ্  সিরাজী’কে দিতে হবে সম্মান-অধিকার”।
তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া,বাংলাপিডিয়া।
বঙ্গাব্দ-প্রফেসর মতিউর রহমান।
সাহিত্য পরিচয়-মাহমুদুল হাসান নিজামী।

লেখক: কবি ,সাংবাদিক এবং সংগঠক।
মোবা: +৮৮০১৮১৯৮০৮৩০৯
ই-মেইল: kajeanisulhaque@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *