সংলাপে এসে আবার আন্দোলন কেন : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, তারা একদিকে আলোচনা করছে, আরেকদিকে আন্দোলনের কর্মসূচি দিচ্ছে। ঐক্যফ্রন্টের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা কী ধরনের সংলাপ? তা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়। জানি না, দেশবাসী, জাতি এটা কীভাবে নেবে। শনিবার (৩ নভেম্বর) জেলহত্যা দিবসে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদের পরিচালনায় জেল হত্যা দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিম-লীর সদস্য বেগম মতিয়াচৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম এবং নিহত চার নেতার পরিবারের সদস্যরা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু হোক, আমরা সেটাই চাই। নির্বাচন সামনে রেখে যখন ঐক্যফ্রন্ট চিঠি দিল আমাদের সাথে দেখা করতে, তখন আমি সাথে সাথে স্বাগত জানালাম। অনেক ব্যস্ততার মাঝেও যারাই দেখা করতে চাচ্ছে, আমরা করছি। ঐক্যফ্রন্ট ও যুক্তফ্রন্ট- দুটো জোটের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়ে গেছে। এরপর অন্যান্য দলের সঙ্গেও সংলাপ হবে। তিনি বলেন, যারা আলাপ করতে চেয়েছে, সংলাপ করতে চেয়েছে, আমরা করেছি। একটা সুন্দর পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। তারা যে সমস্ত দাবি-দাওয়া দিয়েছেন, যেসব দাবি-দাওয়া আমাদের পক্ষে করা সম্ভব, আমরা বলেছি সেটা করব।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা রাজবন্দিদের মুক্তি চেয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বলেছি, রাজবন্দীদের তালিকা দেন। তাদের প্রতি যদি কোনো খুনের মামলা না থাকে, কোনো ক্রিমিনাল অফেন্স তারা করে না থাকে, তাহলে অবশ্যই মুক্তি দেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কাউকে রাজনৈতিক কারণে গ্রেফতার করিনি। তাই যদি করতাম, তাহলে খালেদা জিয়া যখন ২০১৫ সালে পুড়িয়ে মানুষ মারল, তখনই তাকে গ্রেফতার করতে পারতাম। সেটাও তো আমরা করিনি। কাজেই আমরা তো রাজনৈতিক কারণে কাউকে গ্রেফতার করিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসনের বিচারের ক্ষেত্রে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ১০ বছর ধরে মামলাটি চলেছে। সরকারের পক্ষ থেকে যদি কোন দুরভিসন্ধি থাকত, তাহলেও তো ১০ বছর লাগার কথা না। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের মুক্তির বিষয়ে সরকারের কিছু করার সুযোগ নেই বলে জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের তো কিছু করার নাই। আর বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। স্বাধীন বিচার বিভাগ যে রায় দিয়েছে, সে রায়ে খালেদা জিয়া সাজা ভোগ করছে এবং তারেক জিয়া ভোগ করছে। খালেদা জিয়া ও তারেকের দুর্নীতি ‘আন্তর্জাতিকভাবে প্রমাণিত’ মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারেক জিয়ার জন্য তো আমেরিকা থেকে এফবিআই এসে সাক্ষী দিয়ে গেছে, আর খালেদা জিয়ার জন্য কয়েকটি কেইসে তারা সাক্ষী দিতে প্রস্তুত হয়ে আছে। আন্তর্জাতিকভাবেও প্রমাণিত যে এরা দুর্নীতিতে জড়িত। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের করার কী আছে? তারপরও আমরা বলেছি, আপনারা তালিকা দেন। আমরা দেখব কী করা যেতে পারে। আমরা চাই সকলের অংশগ্রহণে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। এদেশের মানুষের যেন আর ওই জ্বালাও-পোড়াওয়ের সম্মুখীন হতে না হয়।

দশম সংসদ নির্বাচনে আগে খালেদা জিয়াকে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর ছেলের (কোকোর) মৃত্যুতে সান্ত¡না দিতে গিয়েও বন্ধ দরজা থেকে ফিরে আসার বিরূপ অভিজ্ঞতার পর বিএনপির সঙ্গে সংলাপে বসার কারণ হিসেবে জনগণের কল্যাণের কথা বিবেচনায় নেয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধুমাত্র দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে এবং মানুষ শান্তিতে ভোট দিক, তাদের পছন্দের সরকার বেছে নিক- সেজন্যই আমরা এ সংলাপে বসেছি, আলোচনা করেছি। শেখ হাসিনা বলেন, অধিকাংশ সময় তারাই কিন্তু কথা বলেছে আমি কিন্তু একটা কথাও বলিনি। দুই ঘণ্টা পর্যন্ত এই জোটের যারা তারা কথা বলেছে। এরপর আমাদের পক্ষ থেকে কথা। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, একেবারে সর্বশেষ সমাপ্তির জন্য যতটুকু বলা, সেটুকু আমি বলেছি। আর সেখানেও আমি বলেছি, কোনটা আমরা করতে পারি, কোনটা কীভাবে করা যায়, সেটা বলে সমাপ্তি টেনেছি। কিছু দাবি আমরা মেনেও নিয়েছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *