ইতিহাসের পাতায় বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন

স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ১২টি নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে বাংলাদেশে৷ ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে দায়িত্ব পালন করছে বর্তমান কমিশন৷ এই কমিশনগুলোর দিকে একবার চোখ বুলিয়ে নেয়া যাক৷ 

ইদ্রিস কমিশন
প্রথম প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন বিচারপতি এম ইদ্রিস৷ তাঁর কমিশনের মেয়াদ ছিল ১৯৭২ সালের ৭ জুলাই থেকে ১৯৭৭ সালের ৭ জুলাই৷ ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করে এই কমিশন৷

নুরুল ইসলাম কমিশন 
বিচারপতি একেএম নুরুল ইসলাম বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদে দায়িত্ব পালন করা প্রধান নির্বাচন কমিশনার৷ তিনি ১৯৭৭ সালের ৮ জুলাই দায়িত্ব নেন৷ অব্যাহতি নেন ১৯৮৫ সালের ১৭ ফ্রেব্রুয়ারি৷ আট বছর দায়িত্ব পালন করেন তিনি৷ Bangladesch Wahlkommision M A Aziz

মাসুদ কমিশন
বিচারপতি চৌধুরী এটিএম মাসুদ দায়িত্ব নেন ১৯৮৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি৷ তিনি পূর্ণ পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ করেন ১৯৯০ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি৷ এরশাদের আমলে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এই কমিশনের অধীনে৷

সুলতান কমিশন
বিচারপতি সুলতান হোসেন খান ১৯৯০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি সিইসি’র দায়িত্ব নেন৷ তবে মাত্র দশ মাস দায়িত্ব পালন করেন৷ ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন তিনি৷

রউফ কমিশন
বিচারপতি সুলতান হোসেন খানের পর বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুর রউফ সিইসি হিসেবে নিযু্ক্ত হন৷ গণতন্ত্র পুণরুদ্ধারের ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা করে তাঁর কমিশন৷ তিনি ১৯৯৫ সালের ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন৷

সাদেক কমিশন
বিচারপতি একেএম সাদেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে নিযুক্ত হন ১৯৯৫ সালের ২৭ এপ্রিল৷ তাঁর কমিশনের অধীনেই হয় ১৯৯৬ সালের বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন৷ তাঁর মেয়াদ ছিল ১৯৯৬ সালের ৬ এপ্রিল পর্যন্ত৷

হেনা কমিশন
এই প্রথম কোনো আমলাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগ দেয়া হয়৷ ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে সাবেক আমলা মোহাম্মদ আবু হেনা ১৯৯৬ সালের ৯ এপ্রিল সিইসি’র দায়িত্ব নেন৷ তাঁর অধীনে ১৯৯৬ সালের জুনে সপ্তম জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়৷ তিনি ২০০০ সালের ৮ মে পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন৷

সায়ীদ কমিশন
অষ্টম সিইসি হিসেবে এমএ সায়ীদ দায়িত্ব নেন ২০০০ সালের ২৩ মে৷ তিনি ২০০৫ সালের ২২ মে পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন৷ অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয় তাঁর কমিশনের অধীনে৷

আজিজ কমিশন
বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত কমিশন আজিজ কমিশন৷ বিচারপতি এমএ আজিজ ২০০৫ সালের ২২ মে সিইসি’র দায়িত্ব নেন৷ ব্যাপক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সময় ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি নবম জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন৷ পরে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান ফখরুদ্দীন আহমদ তফসিল বাতিল করেন৷ ২১ জানুয়ারি পদত্যাগ করেন এম এ আজিজ৷
শামসুল হুদা কমিশন
সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে এমএ আজিজের উত্তরসূরী হন এটিএম শামসুল হুদা৷ তাঁর কমিশন ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নবম জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা করে৷ তাঁর মেয়াদ ছিল ২০০৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত৷

রকিবুদ্দিন কমিশন
২০১২ সালের ০৯ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেয় রকিবুদ্দিন কমিশন৷ সাবেক এই সচিবকে নিয়োগ দেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান৷ আওয়ামী লীগ সরকারের এই মেয়াদেই সংসদে বাতিল হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা৷ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই এই কমিশন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন পরিচালনা করে, যেখানে ১৫৩ জন সংসদ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন৷ পূর্ণ পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ হবার পর ২০১৭ সালের ০৯ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পান রকিবুদ্দিন৷ Bangladesch Wahlkommision ATM Shamsul Huda

নুরুল হুদা কমিশন
বর্তমান কমিশন হলো নুরুল হুদা’র কমিশন৷ সিইসি পদে সাবেক সচিব কেএম নুরুল হুদা নিয়োগ পান ২০১৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি৷ তাঁর অধীনেই হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন৷সূত্র: ডি ডাব্লউ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *