কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর প্রয়াণ! শোকাহত সাহিত্য জগত

কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর প্রয়াণে শোকাহত সাহিত্য জগত। বিচ্ছেদ বোধের মধ্যেও সফলতার স্পর্ধা। তাঁকে প্রণাম, বলেছেন কবি শঙ্খ ঘোষ। মাথায় থাকা ভরসার হাত হারালাম। প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন নবনীতা দেবসেন। অভিভাবক ও দাদাকে হারালাম বলেছেন সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। অভিভাবককে হারালাম, বলেছেন শ্রীজাত।

বিখ্যাত কবি ও সাহিত্যিক নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী মঙ্গলবার সকালে প্রয়াত হলেন । মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। গতকাল সোমবার রাতেই শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যার কারণে তাঁকে কলকাতা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। আজ ২৫ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার বড়দিনের সকালেই মৃত্যু হল কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর।

নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর কথা উঠলেই প্রথমে যাঁর কথা মনে পড়ে সেটি হল ‘অমলকান্তি’। কবি লিখেছেন, ”অমলকান্তি আমার বন্ধু/ সে রোদ্দুর হতে চেয়েছিল।” অমলকান্তি রোদ্দুর হতে পেরেছিলেন কিনা জানা নেই, তবে মঙ্গলবার সকালে রোদ্দুরে মিশে গেলেন প্রিয় কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। শুধু অমলকান্তি কবিতা কেন, কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর কথা মনে পড়লে মনে পড়ে তার লেখা কাব্যগ্রন্থ ‘উলঙ্গ রাজা’ কিংবা কলকাতার যীশু নামের কবিতার কথা । কবিতায় ছোট্ট শিশুকে দিয়ে রাজাকে কবি প্রশ্ন করেছিলেন, ‘রাজা তোর কাপড় কোথায়?’বাংলার কবিতা ও সাহিত্যে কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর লেখা বেশকিছু ছোটগল্প ও উপন্যাস সাহিত্যপ্রেমীর কাছে কাছে চিরপ্রিয় হয়ে থাকবে। উলঙ্গ রাজা কাব্যগ্রন্থের জন্য ১৯৭৪ সালে সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার পান তিনি। এছাড়াও ১৯৯৪ সালে উল্টোরথ পুরস্কার, ১৯৭০ সালে তারাশঙ্কর স্মৃতি, ১৯৭৬ সালে আনন্দ শিরোমণি পুরস্কার পান তিনি। ২০০৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে ডক্টরেট দেওয়া হয় তাঁকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *