স্বাধীনতা কাপের ফাইনালে শেখ রাসেলের মোকাবেলা করবে বসুন্ধরা

ঢাকা, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৮: স্বাধীনতা কাপের ফাইনালে দেশের ফুটবলের নতুন পাওয়ার হাউজ বসুন্ধরা কিংস এর মোকাবেলা করবে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র। আগামীকাল বিকেল সাড়ে চারটায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি।
আসন্ন ফাইনালের আগে শিরোপা জয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করেছে প্রতিদ্বন্দ্বি দুটি ক্লাবই। শিরোপা জয়ের মাধ্যমে হাসি মুখে ঘরোয়া ফুটবলের মৌসুমটির ইতি ঘটাতে চায় উভয় পক্ষ।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাকক্ষে আজ ফাইনাল পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে শেখ রাসেলের কোচ একেএম সাইফুল বারী টিটু বলেন, আসন্ন ফাইনালে তার দলই ফেভারিট। ছেলেরা যদি তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী নিজেদের সেরাটা দিতে পারে তাহলে ম্যাচের ফল তাদের পক্ষেই যাবে। গ্রুপ পর্বে বসুন্ধরা কিংস ও শেখ জামালের সঙ্গে গোলশূণ্য ড্র করে মাত্র দু’পয়েন্ট নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটে দলটি। চট্টগ্রাম আবাহনীকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় দলটি। আর ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে ব্রাদার্সকে হারায় একই ব্যবধানে। তাই শুরু থেকে ফাইনাল পর্যন্ত উঠে আসার কৃতিত্বটা ফুটবলারদেরই দিলেন কোচ টিটু। বলেন,‘শুরুটা খুবই কঠিন ছিল। এখন ফাইনালে খেলছি। পুরো কৃতিত্বটাই ফুটবলারদের।’
ফেডারেশন কাপে বসুন্ধরার কাছে হারের প্রতিশোধ নিতে চান কিনা জানতে চাইলে টিটু বলেন, ‘প্রতিশোধে বিশ্বাসী নই আমি। তবে শিরোপা জিততে চাই। যদিও প্রতিপক্ষের কলিন্দ্রেসের উপরেই আমাদের ফোকাসটা বেশি থাকবে। তাকে কোন সুযোগ দেয়া যাবে না।’
২০১২-১৩ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ, ফেডারেশন কাপ ও স্বাধীনতা কাপ তিনটি শিরোপাই জয় করেছিল শেখ রাসেল। ওই বছরেই সুপার কাপে রানার্সআপ হয় দলটি। কোচ মারুফুল হকের তত্বাবধানে সেটাই ছিল ক্লাবটির সোনালী মুহুর্ত।
তবে এরপর পাল্টে যায় তাদের চেহারা। দল ছাড়েন কোচ মারুফুল হক। দলে সেরা মানের ফুটবলারের ও ঘটিতেতে পড়ে। তবে এই মৌসুমে ফের জেগে উঠেছে শেখ রাসেল। কোচ সাইফুল বারী টিটুর তত্বাবধানে স্বাধীনতা কাপে ম্যাড় ম্যাড়ে শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত ফাইনাল খেলছে তারা।
রাসেলের অধিনায়ক আশরাফুল ইসলাম রানাও শিরোপা জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেন, ফাইনালে সেরা ফুটবল খেলে চ্যাম্পিয়ন শিরোপা জয় করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে তার দল। বলেন, ‘আগে যারা গোল করবে, তারাই এগিয়ে থাকবে ম্যাচে। সে জন্য আমরাই এগিয়ে থাকতে চাই।’
অতীত মুখোমুখি লড়াইয়ে শেখ রাসেলের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে বসুন্ধরা কিংস। অনুশীলন ম্যাচ এবং ফেডারেশন কাপে- দু’বার শেখ রাসেলকে হারিয়েছে তারা। তবে এবারের স্বাধীনতা কাপে ড্র করেছে। তাই ফাইনালে আত্মবিশ্বাসী বসুন্ধরা কোচ অস্কার ব্রুজন। তিনি বলেন,‘ ট্রফি জিতেই ক্রিসমাস পালন করতে চাই। নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে চাই।’ টানা দু’টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলছে বসুন্ধরা। এতে কতটা চাপে দলটি? প্রশ্নের উত্তরে অস্কারের কথা, ‘আমি জানি শেখ রাসেল এখন অবদি গোল হজম করেনি। খুবই শক্তিশালী দল তারা। তার উপর আমাদের দলে কিছু ইনজুরি সমস্যা রয়েছে। স্প্যানিশ ডিফেন্ডার জর্জ গোতোর ব্লাস ইনজুরিতে রয়েছে। ফরোয়ার্ড তৌহিদুল আলম সবুজ নিষিদ্ধ। একটু চাপেতো থাকবোই। তারপরও দেখা যাক কি হয়।’
গোল রক্ষক আনিসুর রহমান জিকুর প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘দু’টি ম্যাচ আমাদেরকে জিতিয়েছে সে। অসাধারণ খেলছে। ফাইনালে সেভাবে খেলতে পারলে আশা করি আমরা শিরোপা জিততে পারবো।’
অধিনায়ক ইমন বাবু বলেন,‘আমরা মন জয় করে খেলতে চাই। কোচ টিটু’র অধীনে খেলার অতীত অভিজ্ঞতার কারণে তার কৌশলের অনেক কিছুই জানা আছে আমাদের। দেখা যাক ম্যাচে কি হয়।’ তবে বসুন্ধরার তুরুপের তাস কোস্টারিকার হয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলা কলিন্দ্রেস।
টুর্নামেন্টের প্রথম সেমি ফাইনালে ব্রাদার্স ইউনিয়নকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে শেখ রাসেল। দ্বিতীয় সেমি -ফাইনালে আবাহনী লিমিটেডের সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলে শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে সাডেন ডেথে ৭-৬ গোলে হারিয়ে ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে বসুন্ধরা কিংস। (বাসস)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *